কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সহজ জয় তুলে নিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। ইরাকের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় শুধু দলকে পরের ধাপে তুলেই দেয়নি, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় আরও উঁচুতে তুলে দিয়েছে ফরাসি তারকাকে।
ম্যাচে দুটি গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। এর ফলে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানে উঠে এসেছেন। তার সামনে এখন আছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৮।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফ্রান্স
নিজের শততম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন এমবাপ্পে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে দূরপাল্লার শক্তিশালী শটে তিনি ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না বলটি ঠেকানোর।
বিরতির সময় আবহাওয়াজনিত কারণে খেলা দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই আবার আঘাত হানেন ফরাসি অধিনায়ক। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সহজ ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
ডেম্বেলের গোলেও স্বস্তির জয়
ইরাকের ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ সাজান উসমান ডেম্বেলে। এমবাপ্পের দ্বিতীয় গোলের পথও তৈরি করেন তিনিই। পরে ম্যাচে নিজেও একটি গোল করে ফ্রান্সের জয়কে আরও নিশ্চিত করেন।
শেষদিকে এমবাপ্পে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর যোগ করা সময়ে তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
রেকর্ডের পথে এমবাপ্পে
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। ২০১৮ সালের শিরোপাজয়ী দল এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্সের এই ফরোয়ার্ডের সামনে এখনও একাধিক বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে। ফলে মেসির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও উজ্জ্বল।
চলতি আসরে ইতোমধ্যে চার গোল করেছেন তিনি। এর আগে ২০২২ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন। ২০১৮ সালের শিরোপাজয়ী অভিযানে করেছিলেন চার গোল।

ফ্রান্সের ইতিহাসেও নতুন উচ্চতায়
এই দুই গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯। এতে তিনি ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন।
ডিজিরে দুয়ে ও উসমান ডেম্বেলের মতো তারকাদের সঙ্গে নিয়ে এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপ খেলছে ফ্রান্স। আর এমবাপ্পে যদি বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারেন, তবে আরও বড় সাফল্য অপেক্ষা করতে পারে ফরাসিদের জন্য।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















