বিশ্বকাপের মঞ্চে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গোল করে দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৭ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পেনাল্টি মিস করার মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেন ফুটবল মহাতারকা।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে করা গোলটি আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। নিজের ৩৯তম জন্মদিনের মাত্র দুই দিন আগে এবং পারিবারিক উদ্বেগের মধ্যেও মেসির এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
টানা ছয় বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল
এই গোলের মাধ্যমে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেছেন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ধারাবাহিকতা দেখাতে পেরেছেন মাত্র কয়েকজন কিংবদন্তি ফুটবলার। ফলে আরেকবার নিজের নাম ইতিহাসের বিশেষ তালিকায় তুলে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে ম্যাচের শুরুটা তার জন্য সুখকর ছিল না। নবম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন তিনি। ডান পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে বল চলে গেলে রেকর্ড গড়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। এরপরও হতাশ না হয়ে ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করেন এবং শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলটি আদায় করে নেন।
একের পর এক রেকর্ড
বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা এর আগে ছিল ১৬, যা তিনি আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে স্পর্শ করেছিলেন। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৭-তে নিয়ে গিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি।
শুধু গোল নয়, ম্যাচ খেলাতেও নতুন রেকর্ড গড়েছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বিশ্বকাপে তার ২৮তম উপস্থিতি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার কীর্তিও নিজের করে নেন আর্জেন্টাইন তারকা।
পারিবারিক দুশ্চিন্তার মধ্যেও উজ্জ্বল

মাঠের বাইরেও কঠিন সময় পার করছেন মেসি। তার বাবা হোর্হে মেসি বর্তমানে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
মেসির ফুটবল জীবনে তার বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছেলের পরামর্শক ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে মেসি নিজেও স্বীকার করেছিলেন, ব্যক্তিগত জীবনের কিছু কঠিন পরিস্থিতি তার মানসিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
তবে সব বাধা ও আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক। তার রেকর্ড গড়া গোল এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















