ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে আজও আলোচিত দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল। ঘটনার চার দশক পেরিয়ে গেলেও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের বড় একটি অংশ এখনো এ নিয়ে অনুশোচনা বা ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন দেখেন না। তাদের মতে, সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার দ্বিতীয় গোলই ছিল আসল বিস্ময়, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা গোলগুলোর একটি।
১৯৮৬ সালের ২২ জুন মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। চার বছর আগে সংঘটিত ফকল্যান্ড যুদ্ধের রাজনৈতিক উত্তেজনার ছায়া তখনও দুই দেশের সম্পর্কের ওপর স্পষ্ট ছিল। ফলে ম্যাচটি মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি আবেগ ও ইতিহাসেরও এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে ওঠে।
দুই গোল, দুই ভিন্ন গল্প
ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষকের সঙ্গে লাফিয়ে উঠে হাতে বল স্পর্শ করে জালে পাঠান ম্যারাডোনা। রেফারির চোখ এড়িয়ে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ করলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

তবে মাত্র চার মিনিট পর ম্যারাডোনা যা করেন, তা ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে যায়। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে অসাধারণ এক গোল করেন তিনি। অনেকের মতে, সেটিই বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোল।
ম্যাচে সেই গোলই শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনার। পরে দলটি ফাইনালে পৌঁছে শিরোপাও জিতে নেয়।
বিতর্কের চেয়ে স্মরণীয় দ্বিতীয় গোল
বর্তমান বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে কথা বলে বোঝা গেছে, অনেকেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের চেয়ে দ্বিতীয় গোলটিকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
এক সমর্থক বলেন, প্রথম গোলটি প্রতারণা হিসেবে ধরা হলেও মানুষ শুধু সেটিকেই মনে রাখে, অথচ একই ম্যাচে করা অসাধারণ গোলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সৃষ্টি। তার মতে, ম্যারাডোনার প্রতিভা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত সেই গোলকে কেন্দ্র করে।
আরেক সমর্থকের ভাষ্য, খেলাধুলা, যুদ্ধ কিংবা ভালোবাসায় অনেক সময় অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে। তিনি স্বীকার করেন যে গোলটি বিতর্কিত ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়টাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তির যুগে অসম্ভব
তরুণ প্রজন্মের অনেক সমর্থক মনে করেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবলে এমন ঘটনা আর ঘটার সুযোগ নেই। ভিডিও সহকারী রেফারি ব্যবস্থার কারণে এখন হাত দিয়ে করা কোনো গোল সহজেই ধরা পড়ে যাবে।
তাদের মতে, সে সময়ের বাস্তবতায় ম্যারাডোনা সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিলেন। যদিও ঘটনাটি বিতর্কিত ছিল, তবুও সেটি ফুটবল ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।
ম্যারাডোনা এখনো কিংবদন্তি
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে ম্যারাডোনা শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক আবেগের নাম। ‘হ্যান্ড অব গড’ কিংবা শতাব্দীর সেরা গোল—দুই ঘটনাই তাকে কিংবদন্তির মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে। চার দশক পরও সেই ম্যাচ, সেই গোল এবং সেই বিতর্ক ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রেই রয়ে গেছে।



সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















