১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

তেলের দাম কমতেই পাকিস্তানে জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ, স্বস্তিতে সরকার

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র কৃষক এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতের জন্য চালু থাকা জ্বালানি ভর্তুকি কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

সরকারের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য হ্রাসের সুফল ইতোমধ্যে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে। ফলে অতিরিক্ত ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তুকি কর্মসূচির মূল্যায়ন

সরকারি কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ, গিলগিট-বালতিস্তান এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে ভর্তুকি কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি মূল্যের বড় ধরনের পতনের কারণে সাধারণ মানুষ সরাসরি মূল্যহ্রাসের সুবিধা পাচ্ছেন।

এ কারণে সরকার মনে করছে, বাজারমূল্য কমে যাওয়ার পর ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক যৌক্তিকতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

ভবিষ্যতের জন্য নতুন নির্দেশনা

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জনসেবামূলক কর্মসূচিতে তথ্যভাণ্ডার ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

কেন চালু হয়েছিল ভর্তুকি

চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছিল।

Govt extends fuel subsidy for motorcyclists, transporters for one month -  Islamabad Post

এই কর্মসূচির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকরা প্রতি লিটারে ৫০ থেকে ১০০ রুপি পর্যন্ত সহায়তা পেতেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হতো। অন্যদিকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতের অপারেটরদের মাসিক ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তেলের দামে বড় পতন

সম্প্রতি সরকার পেট্রোলের দাম লিটারে ৭৪ দশমিক ২৮ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৬৭ দশমিক ৩১ রুপি কমিয়েছে। এর ফলে নতুন মূল্য যথাক্রমে ২৯৯ দশমিক ৫০ রুপি এবং ৩১১ দশমিক ৪৭ রুপিতে নেমে এসেছে।

এর আগে চলতি বছরের এক পর্যায়ে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময় জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি মূল্যের পতন শুধু পরিবহন খরচ কমায় না, কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে সরকার এখন সরাসরি ভর্তুকির পরিবর্তে কম বাজারদামের সুবিধাই জনগণের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

তেলের দাম কমতেই পাকিস্তানে জ্বালানি ভর্তুকি বন্ধ, স্বস্তিতে সরকার

১২:৪১:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর মোটরসাইকেল চালক, ক্ষুদ্র কৃষক এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতের জন্য চালু থাকা জ্বালানি ভর্তুকি কর্মসূচি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

সরকারের মতে, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য হ্রাসের সুফল ইতোমধ্যে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে গেছে। ফলে অতিরিক্ত ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ভর্তুকি কর্মসূচির মূল্যায়ন

সরকারি কমিটির বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ, গিলগিট-বালতিস্তান এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মীরে ভর্তুকি কর্মসূচির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি মূল্যের বড় ধরনের পতনের কারণে সাধারণ মানুষ সরাসরি মূল্যহ্রাসের সুবিধা পাচ্ছেন।

এ কারণে সরকার মনে করছে, বাজারমূল্য কমে যাওয়ার পর ভর্তুকি চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক যৌক্তিকতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

ভবিষ্যতের জন্য নতুন নির্দেশনা

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করা হয় এবং ভবিষ্যতের জনসেবামূলক কর্মসূচিতে তথ্যভাণ্ডার ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

কেন চালু হয়েছিল ভর্তুকি

চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে পরিবহন খরচ, কৃষি উৎপাদন ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় চাপ সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিশেষ ভর্তুকি কর্মসূচি চালু করেছিল।

Govt extends fuel subsidy for motorcyclists, transporters for one month -  Islamabad Post

এই কর্মসূচির আওতায় মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির মালিকরা প্রতি লিটারে ৫০ থেকে ১০০ রুপি পর্যন্ত সহায়তা পেতেন। ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ডিজেলে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হতো। অন্যদিকে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাতের অপারেটরদের মাসিক ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভাড়া ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

তেলের দামে বড় পতন

সম্প্রতি সরকার পেট্রোলের দাম লিটারে ৭৪ দশমিক ২৮ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৬৭ দশমিক ৩১ রুপি কমিয়েছে। এর ফলে নতুন মূল্য যথাক্রমে ২৯৯ দশমিক ৫০ রুপি এবং ৩১১ দশমিক ৪৭ রুপিতে নেমে এসেছে।

এর আগে চলতি বছরের এক পর্যায়ে পেট্রোলের দাম রেকর্ড ৪৫৮ দশমিক ৪০ রুপি এবং ডিজেলের দাম ৫২০ দশমিক ৩৫ রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময় জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি মূল্যের পতন শুধু পরিবহন খরচ কমায় না, কৃষি উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে সরকার এখন সরাসরি ভর্তুকির পরিবর্তে কম বাজারদামের সুবিধাই জনগণের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছে।