পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা আমজাদ হুসেইন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গিলগিট-বালতিস্তানের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পদে অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় তিনি সহজেই নির্বাচিত হন।
আমজাদ হুসেইন গিলগিট-বালতিস্তানের পঞ্চম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তিনি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনে জিবিএ-১ আসন থেকে জয়ী হন এবং বর্তমানে পিপিপির গিলগিট-বালতিস্তান শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও একক নির্বাচন
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগেই গিলগিট-বালতিস্তান আইনসভার স্পিকার হিসেবে পিপিপির ইমরান নাদিম এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের মালিক কিফায়াত উর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পদের জন্য অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়ন জমা না দেওয়ায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচিত হন। নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে আইনসভার সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তারা গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করবেন এবং আইনসভার কার্যক্রম নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবেন।
নির্বাচনের ফল ও জোট সমীকরণ
গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত গিলগিট-বালতিস্তান নির্বাচনে পিপিপি সবচেয়ে বেশি ১৩টি আসন লাভ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ পায় ৯টি আসন। ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টি ৬টি আসন অর্জন করে। এছাড়া মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলিমীন এবং একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি করে আসন পায়।
নির্বাচনের পর সরকার গঠনের লক্ষ্যে পিএমএল-এন ও ইস্তেহকাম-ই-পাকিস্তান পার্টি পিপিপিকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে মুখ্যমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে পিপিপি-সমর্থিত প্রার্থীরা সহজেই বিজয়ী হন।

সরকার গঠনের প্রস্তুতি
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ভিত্তিতে পিপিপি ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মিত্র দলগুলোর সমর্থন নিয়ে গিলগিট-বালতিস্তানে সরকার গঠন করবে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমজাদ হুসেইনের নির্বাচিত হওয়া সেই প্রক্রিয়াকে আরও দৃঢ় করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৃহত্তম দল হিসেবে পিপিপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকার অঞ্চলটির প্রশাসনিক কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখন নতুন সরকারের কার্যক্রম ও অগ্রাধিকার কী হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















