০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

ইরান চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ, কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, চুক্তির কিছু শর্ত ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের উপসাগরীয় সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হবে।

চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো

খসড়া চুক্তির কয়েকটি দিক উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো নতুন সীমাবদ্ধতা না থাকা, দেশটির জন্য বিপুল পুনর্গঠন তহবিল গঠনের প্রস্তাব এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ইরানের ভূমিকা বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে উপসাগরীয় সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

The Gulf that emerges from the Iran war will be very different - Atlantic  Council

নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় উপসাগরীয় দেশগুলো বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছিল। একই সঙ্গে তারা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিও মোকাবিলা করেছে। ফলে নতুন সমঝোতার বিষয়ে তাদের মতামত ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। তাই আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ উপেক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে অস্বস্তি

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

কিন্তু নতুন সমঝোতায় এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ এসব দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই অবস্থান করছে এবং অতীতেও হামলার শিকার হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন: যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে প্রায় ১০  হাজার কোটি ডলার আয় করেছে রাশিয়া - BBC News বাংলা

পুনর্গঠন তহবিল নিয়ে শঙ্কা

চুক্তির আওতায় ইরানের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের প্রস্তাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই অর্থ দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

বিশেষ করে বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ মনে করছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ইরানকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফা চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধসহ আর কী রয়েছে? - BBC News  বাংলা

ফলে কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা মনে করছে, ভবিষ্যতে এই রুটে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

নতুন সম্পর্ক, পুরোনো সংশয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে সেই পরিবর্তন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে নাকি নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করবে, তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে উপসাগরীয় নেতাদের আশ্বস্ত করা এবং একই সঙ্গে নতুন চুক্তির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

ইরান চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় মিত্রদের উদ্বেগ, কঠিন কূটনৈতিক পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

০১:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই চুক্তি নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, চুক্তির কিছু শর্ত ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের উপসাগরীয় সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হবে।

চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো

খসড়া চুক্তির কয়েকটি দিক উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো নতুন সীমাবদ্ধতা না থাকা, দেশটির জন্য বিপুল পুনর্গঠন তহবিল গঠনের প্রস্তাব এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে ইরানের ভূমিকা বৃদ্ধির সম্ভাবনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে উপসাগরীয় সুন্নি রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।

The Gulf that emerges from the Iran war will be very different - Atlantic  Council

নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় উপসাগরীয় দেশগুলো বিভিন্নভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছিল। একই সঙ্গে তারা ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিও মোকাবিলা করেছে। ফলে নতুন সমঝোতার বিষয়ে তাদের মতামত ওয়াশিংটনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে। তাই আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ উপেক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সহজ হবে না।

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে অস্বস্তি

চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি। সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

কিন্তু নতুন সমঝোতায় এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বিধিনিষেধ নেই। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ এসব দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই অবস্থান করছে এবং অতীতেও হামলার শিকার হয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন: যুদ্ধের প্রথম ১০০ দিনে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে প্রায় ১০  হাজার কোটি ডলার আয় করেছে রাশিয়া - BBC News বাংলা

পুনর্গঠন তহবিল নিয়ে শঙ্কা

চুক্তির আওতায় ইরানের জন্য প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল গঠনের প্রস্তাবও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই অর্থ দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতেও ব্যবহৃত হতে পারে।

বিশেষ করে বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ মনে করছে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ইরানকে আঞ্চলিক রাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফা চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধসহ আর কী রয়েছে? - BBC News  বাংলা

ফলে কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এই বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা মনে করছে, ভবিষ্যতে এই রুটে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

নতুন সম্পর্ক, পুরোনো সংশয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে সেই পরিবর্তন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে নাকি নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করবে, তা নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে উপসাগরীয় নেতাদের আশ্বস্ত করা এবং একই সঙ্গে নতুন চুক্তির পক্ষে অবস্থান ব্যাখ্যা করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।