০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ইংল্যান্ডের নতুন ফুটবল দর্শন: কেন কেবল অভিজ্ঞতা আর যথেষ্ট নয় স্টারমারের বিদায়ের পর ব্রিটেনের অর্থনীতির সামনে যে কঠিন সমীকরণ নিষিদ্ধ কণ্ঠের মূল্য: গান গাওয়ায় ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা, ইরানে নারীদের প্রতি নতুন বার্তা জিম লেইটনের লড়াই: বিশ্বকাপের গৌরব থেকে ক্যানসার জয়ের অনুপ্রেরণার গল্প তৈরি পোশাক শিল্পের সংকট সাময়িক, নাকি সামনে আরও কঠিন সময়? নেতৃত্ব বদলের দ্বারপ্রান্তে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, সামনে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ৬৩ বছরেও ফিটনেস আইকন অনিতা রাজ,পুরোনো ফিটনেস ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোচনা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আবার হালনাগাদে সরকার, গঠিত হলো ২২ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব বাবুল ঢাবির তিন শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, আরও দুজনের একাডেমিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, নিষিদ্ধ অবস্থায় পালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠার দিন

বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে দলটির জন্ম হয়। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় নানা পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

দলের প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সে সময় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি ছিলেন। বন্দি অবস্থাতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল।

স্বাধীনতা: মওলানা ভাসানী

দলটির সূচনালগ্ন থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক দাবির প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

নাম পরিবর্তন ও সাংগঠনিক বিকাশ

১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানী পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এরপর ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটির নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

১৯৬৬ সালের ১ মার্চ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণার প্রাক্কালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে দলটি স্বাধিকার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট

দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আওয়ামী লীগ আজ ৭৭ বছরে পদার্পণ করেছে। তবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক বাস্তবতায় পালিত হচ্ছে, যখন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিনটি দলটির সাংগঠনিক বিকাশ, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাদের ভূমিকার স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইংল্যান্ডের নতুন ফুটবল দর্শন: কেন কেবল অভিজ্ঞতা আর যথেষ্ট নয়

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, নিষিদ্ধ অবস্থায় পালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠার দিন

০১:৩৩:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেনে দলটির জন্ম হয়। সে সময় পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় নানা পরিবর্তন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। তবে এবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস

দলের প্রথম কাউন্সিলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি এবং শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। সে সময় তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে বন্দি ছিলেন। বন্দি অবস্থাতেই তাকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের প্রথম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল।

স্বাধীনতা: মওলানা ভাসানী

দলটির সূচনালগ্ন থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক দাবির প্রশ্নে সক্রিয় ভূমিকা ছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

নাম পরিবর্তন ও সাংগঠনিক বিকাশ

১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় কাউন্সিলে মওলানা ভাসানী পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হন এবং শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

এরপর ১৯৫৫ সালের ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় কাউন্সিলে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দলটির নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’, যা পরবর্তীতে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব

১৯৬৬ সালের ১ মার্চ ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণার প্রাক্কালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে দলটি স্বাধিকার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি দলটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

বর্তমান প্রেক্ষাপট

দীর্ঘ সাত দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে আওয়ামী লীগ আজ ৭৭ বছরে পদার্পণ করেছে। তবে এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এমন এক বাস্তবতায় পালিত হচ্ছে, যখন দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ইতিহাসে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিনটি দলটির সাংগঠনিক বিকাশ, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাদের ভূমিকার স্মারক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।