০৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশের চেষ্টা নস্যাৎ: ডিএমপি কমিশনার নিউট্রিশনের ‘সুইট স্পট’: প্রোটিন ও ফাইবার একসঙ্গে মিলবে যে ৫ খাবারে নেতৃত্ব বদলালেই কি বদলাবে রাজনীতি? অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে ব্রিটেনের নতুন পরীক্ষার মুহূর্ত চীনের সিদ্ধান্তেই কি নির্ধারিত হবে তেলের ভবিষ্যৎ দাম? বাংলাদেশ চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে, চূড়ান্ত চুক্তির পথে ঢাকা-বেইজিং কোটাক মহিন্দ্রার বড় লক্ষ্য: অধিগ্রহণ ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে ভারতের শীর্ষ তিন বেসরকারি ব্যাংকের কাতারে উঠতে চায় রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণের চাপ, অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বাড়ছে ঝুঁকি ভারতে এলপিজির ব্যবহার কমেছে ২০ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ছুঁতে যাচ্ছে রেকর্ড উচ্চতা ইরান শান্তি আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা: কূটনৈতিক সাফল্য কি অর্থনৈতিক লাভে রূপ নেবে? ইংল্যান্ডের নতুন ফুটবল দর্শন: কেন কেবল অভিজ্ঞতা আর যথেষ্ট নয়

দেউলিয়া ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের স্বস্তি: প্রথম ধাপে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে থাকা আমানতের কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন হাজারো গ্রাহক। মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত না পাওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ, আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারস্থ হওয়া—এসব ছিল ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের নিত্য বাস্তবতা। অবশেষে সেই সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়া পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়নের নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বন্ধের পথে যে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

অবসায়ন বা লিকুইডেশনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে।

দুর্বল ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে যা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এসব আমানতের বড় অংশ আটকে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ক্ষেত্রে তা ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা বা তার কম আমানত রয়েছে এমন ব্যক্তি গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের আমানতকারীরা, যাদের অনেকেই তাদের জীবনের সঞ্চয় এসব প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন।

যাদের আমানতের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি, তারাও চাইলে প্রথম ধাপে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। পরে বাকি অর্থ কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সীমিত সম্পদ ও বিপুল দায়ের মধ্যে সাধারণ ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বড় আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ কী

প্রথম ধাপের অর্থ পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, উদ্ধারযোগ্য ঋণ, বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

দেশে মোট কত টাকা আছে

অর্থাৎ বড় ব্যক্তি আমানতকারী, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এবং অন্যান্য পাওনাদারদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি প্রশাসকদের মূল্যায়ন ও অবসায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ বিক্রি ও ঋণ আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ হওয়ায় এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

অমানতকারীদের দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স অব ৬ এনবিএফআইস ডিপোজিটরস ফর রিকভারি’-এর আহ্বায়ক জাফর খান ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি মনে করেন, শুধু ছোট আমানতকারী নয়, সব শ্রেণির আমানতকারীর জন্য একটি সময়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত অর্থ ফেরত নীতিমালা ঘোষণা করা প্রয়োজন।

তার মতে, ধাপে ধাপে হলেও সব আমানতকারীর জন্য সমানুপাতিক ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কারণ এসব আমানতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জীবনভর সঞ্চয়, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়, বিধবা নারীর নিরাপত্তা এবং বহু ব্যবসায়ীর মূলধন।

কেন ধসে পড়ল প্রতিষ্ঠানগুলো

এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সংকটের পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। আভিভা ফাইন্যান্সের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ব্যবসায়ী এস আলম। অন্যদিকে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত পি কে হালদারের হাতে।

বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু: ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা

তাদের সময়ে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণের বড় অংশ পরে খেলাপিতে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা হারায় প্রতিষ্ঠানগুলো।

আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এরপর সম্পদ, দায়-দেনা, মামলা এবং উদ্ধারযোগ্য ঋণের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ সফল হলে আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১২ বছরের এই সংকট নিরসনে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পারবেন। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানতধারীরা কবে এবং কীভাবে পুরো অর্থ ফেরত পাবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীতে সমাবেশের চেষ্টা নস্যাৎ: ডিএমপি কমিশনার

দেউলিয়া ৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের স্বস্তি: প্রথম ধাপে মিলবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত

০১:৫১:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের কয়েকটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে (এনবিএফআই) আটকে থাকা আমানতের কারণে ভোগান্তিতে ছিলেন হাজারো গ্রাহক। মেয়াদ শেষে টাকা ফেরত না পাওয়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে বিক্ষোভ, আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারস্থ হওয়া—এসব ছিল ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের নিত্য বাস্তবতা। অবশেষে সেই সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়া পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আমানত ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারি তহবিল থেকে অর্থায়নের নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বন্ধের পথে যে পাঁচ প্রতিষ্ঠান

অবসায়ন বা লিকুইডেশনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে।

দুর্বল ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরতের বিষয়ে যা জানালো বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২৭ হাজার ব্যক্তি আমানতকারীর মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এসব আমানতের বড় অংশ আটকে রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ক্ষেত্রে তা ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশাসক নিয়োগের পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা বা তার কম আমানত রয়েছে এমন ব্যক্তি গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন ক্ষুদ্র ও মধ্যম আয়ের আমানতকারীরা, যাদের অনেকেই তাদের জীবনের সঞ্চয় এসব প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন।

যাদের আমানতের পরিমাণ ১০ লাখ টাকার বেশি, তারাও চাইলে প্রথম ধাপে ১০ লাখ টাকা গ্রহণ করতে পারবেন। পরে বাকি অর্থ কীভাবে ও কোন প্রক্রিয়ায় পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সীমিত সম্পদ ও বিপুল দায়ের মধ্যে সাধারণ ও ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

বড় আমানতকারীদের ভবিষ্যৎ কী

প্রথম ধাপের অর্থ পরিশোধের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, উদ্ধারযোগ্য ঋণ, বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

দেশে মোট কত টাকা আছে

অর্থাৎ বড় ব্যক্তি আমানতকারী, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারী এবং অন্যান্য পাওনাদারদের অর্থ ফেরতের বিষয়টি প্রশাসকদের মূল্যায়ন ও অবসায়ন প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পদ বিক্রি ও ঋণ আদায়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ হওয়ায় এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।

অমানতকারীদের দাবি

ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের সংগঠন ‘অ্যালায়েন্স অব ৬ এনবিএফআইস ডিপোজিটরস ফর রিকভারি’-এর আহ্বায়ক জাফর খান ক্ষুদ্র আমানতকারীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি মনে করেন, শুধু ছোট আমানতকারী নয়, সব শ্রেণির আমানতকারীর জন্য একটি সময়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত অর্থ ফেরত নীতিমালা ঘোষণা করা প্রয়োজন।

তার মতে, ধাপে ধাপে হলেও সব আমানতকারীর জন্য সমানুপাতিক ভিত্তিতে অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কারণ এসব আমানতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জীবনভর সঞ্চয়, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয়, বিধবা নারীর নিরাপত্তা এবং বহু ব্যবসায়ীর মূলধন।

কেন ধসে পড়ল প্রতিষ্ঠানগুলো

এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সংকটের পেছনে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্বল তদারকি এবং বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ। আভিভা ফাইন্যান্সের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন ব্যবসায়ী এস আলম। অন্যদিকে এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযুক্ত পি কে হালদারের হাতে।

বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু: ২৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা

তাদের সময়ে বিতরণ করা বিপুল পরিমাণ ঋণের বড় অংশ পরে খেলাপিতে পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন উপায়ে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা হারায় প্রতিষ্ঠানগুলো।

আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। এরপর সম্পদ, দায়-দেনা, মামলা এবং উদ্ধারযোগ্য ঋণের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা অর্থ ফেরতের উদ্যোগ সফল হলে আর্থিক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে একই সঙ্গে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াও সমান গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১২ বছরের এই সংকট নিরসনে আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীরা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পারবেন। তবে ১০ লাখ টাকার বেশি আমানতধারীরা কবে এবং কীভাবে পুরো অর্থ ফেরত পাবেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।