০৪:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আবার হালনাগাদে সরকার, গঠিত হলো ২২ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ

দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আবারও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২২ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এ পরিষদ নতুন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন এবং নিয়মিত হালনাগাদের দায়িত্ব পালন করবে।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা। এছাড়া বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক আয়োজনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও থাকবে।

আগের তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন উদ্যোগ

আবারও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, পূর্বে প্রণীত তালিকাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। তাঁর মতে, অতীতের কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে মামলা ও পাল্টা মামলার প্রেক্ষাপট থাকায় এবার সব ধরনের বিধিবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিদের টাস্কফোর্সে রাখা হয়নি। তবে এবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএআইএমএ থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

২৯৫ ওষুধের সম্প্রসারিত তালিকা

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৯৫-এ উন্নীত করা হয়েছিল। এতে নতুন করে ১৭৮টি ওষুধ যুক্ত হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সম্প্রসারিত তালিকাটি অনুমোদন পেয়েছিল।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, তালিকাভুক্ত ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগের চিকিৎসায়ও এসব ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিতে কঠোর শর্ত

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, সাশ্রয়ী হবে সুচিকিৎসা

সম্প্রসারিত তালিকার সঙ্গে প্রকাশিত নীতিমালায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক কাঠামো এবং বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে তাদের বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ পরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হবে। এ শর্ত পূরণ না করলে নতুন ওষুধের অনুমোদন স্থগিত থাকতে পারে।

এছাড়া নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত খুচরা মূল্য বৃদ্ধি বা মার্ক-আপ নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল।

উচ্চ ওষুধ ব্যয়ের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৪৪ টাকা ওষুধ কেনায় ব্যয় হয়। বৈশ্বিক গড় যেখানে ১৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের হার অনেক বেশি। ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে প্রায় ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেছেন, ওষুধের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন যাতে রোগী ও উৎপাদক—উভয় পক্ষই উপকৃত হয়। একই সঙ্গে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ওষুধ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে নতুন উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আবার হালনাগাদে সরকার, গঠিত হলো ২২ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ

০২:০৬:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জাতীয় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা আবারও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২২ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত এ পরিষদ নতুন অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়ন এবং নিয়মিত হালনাগাদের দায়িত্ব পালন করবে।

রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব হবে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রতি দুই বছর অন্তর তা পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা। এছাড়া বছরে অন্তত দুইবার বৈঠক আয়োজনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও থাকবে।

আগের তালিকা পর্যালোচনা করে নতুন উদ্যোগ

আবারও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে

স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, পূর্বে প্রণীত তালিকাটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন তালিকা তৈরি করা হবে। তাঁর মতে, অতীতের কিছু সিদ্ধান্তকে ঘিরে মামলা ও পাল্টা মামলার প্রেক্ষাপট থাকায় এবার সব ধরনের বিধিবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

তিনি জানান, অতীতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে ওষুধশিল্পের প্রতিনিধিদের টাস্কফোর্সে রাখা হয়নি। তবে এবার বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের (বিএপিআই) প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএআইএমএ থেকে কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।

২৯৫ ওষুধের সম্প্রসারিত তালিকা

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ১১৭ থেকে বাড়িয়ে ২৯৫-এ উন্নীত করা হয়েছিল। এতে নতুন করে ১৭৮টি ওষুধ যুক্ত হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সম্প্রসারিত তালিকাটি অনুমোদন পেয়েছিল।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমান সে সময় বলেছিলেন, তালিকাভুক্ত ২৯৫টি ওষুধ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগের চিকিৎসায়ও এসব ওষুধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিতে কঠোর শর্ত

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত, সাশ্রয়ী হবে সুচিকিৎসা

সম্প্রসারিত তালিকার সঙ্গে প্রকাশিত নীতিমালায় ওষুধের মূল্য নির্ধারণে বিজ্ঞানভিত্তিক কাঠামো এবং বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিকে তাদের বার্ষিক বিক্রয়ের অন্তত ২৫ শতাংশ পরিমাণ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হবে। এ শর্ত পূরণ না করলে নতুন ওষুধের অনুমোদন স্থগিত থাকতে পারে।

এছাড়া নতুন জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত খুচরা মূল্য বৃদ্ধি বা মার্ক-আপ নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছিল।

উচ্চ ওষুধ ব্যয়ের চাপ

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইকিউভিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৪৪ টাকা ওষুধ কেনায় ব্যয় হয়। বৈশ্বিক গড় যেখানে ১৫ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশের হার অনেক বেশি। ২০২২ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপ অনুযায়ী, ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে প্রায় ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেছেন, ওষুধের দাম এমনভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন যাতে রোগী ও উৎপাদক—উভয় পক্ষই উপকৃত হয়। একই সঙ্গে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য ওষুধ প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদে নতুন উদ্যোগ দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।