ভারতের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক অতিরিক্ত মূলধন কাজে লাগিয়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগোতে চায়। এজন্য ব্যাংকটি নতুন অধিগ্রহণ, ঋণ পোর্টফোলিও কেনা, বিকল্প সম্পদে বিনিয়োগ এবং ব্যাংকের বাইরের আর্থিক খাতে সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বসওয়ানি।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কোটাক মহিন্দ্রার লক্ষ্য হলো কর-পরবর্তী মুনাফার ভিত্তিতে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংকে পরিণত হওয়া। বর্তমানে এই তালিকায় কোটাকের ওপরে রয়েছে এইচডিএফসি ব্যাংক, আইসিআইসিআই ব্যাংক এবং অ্যাক্সিস ব্যাংক।
প্রবৃদ্ধির জন্য অধিগ্রহণে আগ্রহ
ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের উদ্যোক্তা উদয় কোটাকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটি নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণে ‘জৈব’ এবং ‘অজৈব’—দুই ধরনের প্রবৃদ্ধির পথেই আগ্রহী। অশোক বসওয়ানি বলেন, উপযুক্ত সুযোগ এলে তারা অধিগ্রহণের দিকেও এগোবে। তবে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির আর্থিক আকার সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কিছু জানাননি।
![]()
এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত আইডিবিআই ব্যাংকের অংশীদারিত্ব কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখালেও উচ্চ মূল্যায়নের কারণে সেই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে কোটাক মহিন্দ্রা। পাশাপাশি জার্মানির ডয়েচে ব্যাংকের ভারতীয় খুচরা ব্যাংকিং ব্যবসা অধিগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি ভারতের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যক্তিগত ঋণ পোর্টফোলিও অধিগ্রহণ করেছে। এছাড়া ২০২৩ সালে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান সোনাটা ফাইন্যান্সও কিনে নেয়।
বিকল্প সম্পদ ও আর্থিক অবকাঠামোয় নজর
বসওয়ানি বলেন, ভালো মুনাফার সুযোগ থাকলে বিকল্প সম্পদে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। পণ্যবাজার এক্সচেঞ্জ এমসিএক্সে কোটাকের বিনিয়োগ রয়েছে এবং আর্থিক বাজারের অবকাঠামো খাতে নতুন সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তার ভাষায়, আর্থিক বাজারকে সহায়তা করে এমন অবকাঠামো খাত তাদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ভবিষ্যতে এই খাতে আরও বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
অতিরিক্ত মূলধন ব্যবহারের চাপ
কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততার হার বর্তমানে ২৩ শতাংশ, যেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত ন্যূনতম সীমা ৯ শতাংশ। ভারতের শীর্ষ তিন বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এই হার সাধারণত ১৬ থেকে ১৯ শতাংশের মধ্যে থাকে।

অতিরিক্ত মূলধন থাকায় ব্যাংকের মূলধনের ওপর আয় বা রিটার্ন অন ক্যাপিটাল কিছুটা চাপে রয়েছে। ফলে সেই অর্থকে লাভজনক খাতে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
ঋণ বিতরণে গতি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকটি উচ্চ আয়ের গ্রাহক, মধ্যবিত্ত শ্রেণি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন বসওয়ানি।
প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জোর
তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছিল কোটাক মহিন্দ্রা। সেই অভিজ্ঞতার পর এখন ব্যাংকটি পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ১৩ শতাংশ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করছে।
সাইবার নিরাপত্তা জোরদার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়িয়ে দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বসওয়ানি জানান, গত এক বছরে ব্যাংকটির ব্যালান্স শিট ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে, কিন্তু মোট কর্মীসংখ্যা বাড়াতে হয়নি।
তার মতে, ভবিষ্যতেও নিয়োগ অব্যাহত থাকবে, তবে কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধির হার ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের তুলনায় অনেক কম হবে। প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই হবে কোটাক মহিন্দ্রার প্রধান কৌশল।
কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা, অধিগ্রহণ কৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর রূপান্তর ভারতের ব্যাংকিং খাতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র করে তুলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















