০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

বাংলাদেশ চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে, চূড়ান্ত চুক্তির পথে ঢাকা-বেইজিং

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তব রূপ পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

সোমবার শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিভিন্ন কারিগরি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত সপ্তাহে একটি চীনা প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে আলোচনা এগিয়ে নেয়। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে।

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

‘শেয়ার্ড ফিউচার’ অংশীদারিত্বের দিকে ঢাকা-বেইজিং

এই প্রতিরক্ষা আলোচনা বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঘোষণা আসতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিস্তা ও মংলা প্রকল্পে চীনের ভূমিকা

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়নেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

সরকার মংলায় ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছে। এর আগে একই এলাকা ভারতীয় বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সেই উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে নতুন চীনা শিল্প পার্ক

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

মংলার সিদ্ধান্তের অল্প সময় আগে সরকার চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দেয়। সেখানে চীন ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরকারের মতে, নতুন শিল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চীনা উৎপাদনশীল শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুত ঘনিষ্ঠতা ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ইস্যু ও কিছু কূটনৈতিক ঘটনার কারণে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের আলোচনা রয়েছে।

বর্তমান সরকার একাধিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গেও সক্রিয় সম্পর্ক ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেও উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া সহজ হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

বাংলাদেশ চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে, চূড়ান্ত চুক্তির পথে ঢাকা-বেইজিং

০৩:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশ সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা আশা করছেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তব রূপ পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

সোমবার শুরু হওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে যাচ্ছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সফরকালে দুই দেশের প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিভিন্ন কারিগরি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি জে-১০সিই যুদ্ধবিমানের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত সপ্তাহে একটি চীনা প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে আলোচনা এগিয়ে নেয়। বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চীনের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে।

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

‘শেয়ার্ড ফিউচার’ অংশীদারিত্বের দিকে ঢাকা-বেইজিং

এই প্রতিরক্ষা আলোচনা বৃহত্তর কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনা প্রিমিয়ার লি ছিয়াংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের সম্পর্ককে ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ বা অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঘোষণা আসতে পারে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরকালে প্রায় ১৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিস্তা ও মংলা প্রকল্পে চীনের ভূমিকা

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি মংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়নেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

সরকার মংলায় ১১০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তুত করেছে। এর আগে একই এলাকা ভারতীয় বিনিয়োগের জন্য নির্ধারিত ছিল এবং একটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও হয়েছিল। তবে সম্প্রতি সেই উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামে নতুন চীনা শিল্প পার্ক

চীন থেকে ২৪টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ

মংলার সিদ্ধান্তের অল্প সময় আগে সরকার চট্টগ্রামে একটি বিশেষ চীনা শিল্প পার্কের অনুমোদন দেয়। সেখানে চীন ইতোমধ্যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সরকারের মতে, নতুন শিল্প বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। চীনা উৎপাদনশীল শিল্প বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হলে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন ভারসাম্য

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্রুত ঘনিষ্ঠতা ভারত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ইস্যু ও কিছু কূটনৈতিক ঘটনার কারণে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েনের আলোচনা রয়েছে।

বর্তমান সরকার একাধিক শক্তিধর দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করছে। চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গেও সক্রিয় সম্পর্ক ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধি এবং রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ জোরদারের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যেও উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া সহজ হবে না বলেও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।