০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

এফবিআই প্রধানের একের পর এক মানহানি মামলা, চাপে মার্কিন সংবাদমাধ্যম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল গত কয়েক বছরে সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানির মামলা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, এসব মামলা শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

গত প্রায় সাত বছরে কাশ প্যাটেল অন্তত ছয়টি মানহানির মামলা করেছেন। এসব মামলার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্লেষক ও ব্লগার। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় তিনি উল্লেখযোগ্য আইনি বিজয় বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় তা এগোয়নি, আবার কোনো কোনো মামলা তিনি পরে প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন।

সংবাদ কভারেজ নিয়ে ক্ষোভ

২০১৯ সালে তৎকালীন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন কাশ প্যাটেল। তিনি তখন কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং দাবি করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

পরে ২০২৩ সালে এক ব্লগারের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করেন। ওই ব্লগার তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন এবং অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

এ বছরও বিতর্ক থামেনি। এপ্রিলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার আচরণ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকাশনার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এসব মামলা সংবাদমাধ্যমের ওপর আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়। কোনো মামলা শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের প্রতিবেদন রক্ষায় সময়, অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে একটি বার্তা পৌঁছে যায় যে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমালোচনামূলকভাবে কভার করলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অন্যদিকে কাশ প্যাটেলের আইনজীবীদের দাবি, এসব মামলা করার উদ্দেশ্য শুধুই সত্য প্রতিষ্ঠা করা। তাদের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিকার পেতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

FBI Director Kash Patel explodes at reporter: 'You are lying!'

আদালতে কঠিন চ্যালেঞ্জ

মার্কিন আইনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন, তাহলে তাকে শুধু তথ্য ভুল ছিল তা নয়, সাংবাদিকরা জেনেশুনে বা চরম অবহেলার মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন—এটিও প্রমাণ করতে হয়। আইনি ভাষায় এটি ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত।

এই কারণেই এমন মামলায় জেতা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে তার কয়েকটি মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। কিছু মামলায় বিচারক মন্তব্য করেছেন, অভিযোগগুলো মানহানির আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।

রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে সমালোচনা, তথ্যপ্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা এবং আইনি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

কাশ প্যাটেলের ধারাবাহিক মামলাগুলো সেই বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও তার পক্ষের দাবি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে চলমান মামলাগুলোর রায় কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এরই মধ্যে এসব মামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানি মামলা করে আলোচনায় এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

এফবিআই প্রধানের একের পর এক মানহানি মামলা, চাপে মার্কিন সংবাদমাধ্যম

০৫:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল গত কয়েক বছরে সংবাদমাধ্যম ও সমালোচকদের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানির মামলা করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সমালোচকরা বলছেন, এসব মামলা শুধু আইনি লড়াই নয়, বরং সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

গত প্রায় সাত বছরে কাশ প্যাটেল অন্তত ছয়টি মানহানির মামলা করেছেন। এসব মামলার লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, বিশ্লেষক ও ব্লগার। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় তিনি উল্লেখযোগ্য আইনি বিজয় বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। কিছু ক্ষেত্রে মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ সময় তা এগোয়নি, আবার কোনো কোনো মামলা তিনি পরে প্রত্যাহারও করে নিয়েছেন।

সংবাদ কভারেজ নিয়ে ক্ষোভ

২০১৯ সালে তৎকালীন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন কাশ প্যাটেল। তিনি তখন কয়েকটি বড় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং দাবি করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।

পরে ২০২৩ সালে এক ব্লগারের বিরুদ্ধেও তিনি মামলা করেন। ওই ব্লগার তার কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন এবং অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় কোটি কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।

এ বছরও বিতর্ক থামেনি। এপ্রিলে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার আচরণ ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকাশনার বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, এসব মামলা সংবাদমাধ্যমের ওপর আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ায়। কোনো মামলা শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও সংবাদমাধ্যমকে নিজেদের প্রতিবেদন রক্ষায় সময়, অর্থ ও জনবল ব্যয় করতে হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সাংবাদিকদের মধ্যে একটি বার্তা পৌঁছে যায় যে ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সমালোচনামূলকভাবে কভার করলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অন্যদিকে কাশ প্যাটেলের আইনজীবীদের দাবি, এসব মামলা করার উদ্দেশ্য শুধুই সত্য প্রতিষ্ঠা করা। তাদের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রতিকার পেতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

FBI Director Kash Patel explodes at reporter: 'You are lying!'

আদালতে কঠিন চ্যালেঞ্জ

মার্কিন আইনে কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন, তাহলে তাকে শুধু তথ্য ভুল ছিল তা নয়, সাংবাদিকরা জেনেশুনে বা চরম অবহেলার মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছেন—এটিও প্রমাণ করতে হয়। আইনি ভাষায় এটি ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত।

এই কারণেই এমন মামলায় জেতা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে তার কয়েকটি মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। কিছু মামলায় বিচারক মন্তব্য করেছেন, অভিযোগগুলো মানহানির আইনি মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি।

রাজনীতি ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক

পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি ও সংবাদমাধ্যমের সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকাশ্যে সমালোচনা, তথ্যপ্রাপ্তিতে সীমাবদ্ধতা এবং আইনি চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাড়তি চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে।

কাশ প্যাটেলের ধারাবাহিক মামলাগুলো সেই বৃহত্তর প্রবণতারই অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও তার পক্ষের দাবি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার পাওয়ার অধিকারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতে চলমান মামলাগুলোর রায় কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এরই মধ্যে এসব মামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একের পর এক মানহানি মামলা করে আলোচনায় এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।