১১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

মার্কিন সীমান্তে সেনা মোতায়েনের শেষ কোথায়? ব্যয়, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের যে অভিযান শুরু হয়েছিল, তা এক বছরের বেশি সময় পার করলেও শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। সীমান্তে অবৈধ পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও হাজার হাজার সেনা এখনো টহলে রয়েছে। এতে একদিকে চোরাকারবারি ও মাদক চক্রের ওপর চাপ বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যয় ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি

প্রায় দুই হাজার মাইলজুড়ে বিস্তৃত দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং পদাতিক টহলের মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর এই উপস্থিতির ফলে অনেক চোরাচালানকারী ও অপরাধী চক্রকে দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরে যেতে হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এই সাফল্যের মূল্যও কম নয়। প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে

সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার পর সেনাসদস্যদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে অনুপ্রবেশ এবং হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।

যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ড্রোন হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবু সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সেনাবাহিনী ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করেছে।

U.S. Border Troop Mission Continues as Crossings Decline | Border News |  myheraldreview.com

প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হয়ে উঠছে সীমান্ত

এই সীমান্ত মিশন এখন নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, দূরনিয়ন্ত্রিত নজরদারি প্রযুক্তি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। যৌথ টহল ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে শত শত নজরদারি ও গোয়েন্দা উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যয় ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

সীমান্ত অভিযানের সমালোচকেরা বলছেন, এই মিশনের কারণে সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, যে সেনারা অন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তারা দীর্ঘ সময় সীমান্তে ব্যস্ত থাকায় সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অভিযান শুরুর প্রথম কয়েক মাসেই শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এরপর মোট ব্যয় কত দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী অনেক সেনাসদস্য মনে করেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার সুযোগ তাদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। টহল, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তারা মনে করেন।

শেষের কোনো লক্ষণ নেই

বর্তমানে সীমান্তে সামরিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকাকে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অস্থায়ীভাবে আটক রাখার ক্ষমতাও সেনাদের দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে সীমান্তে সেনা মোতায়েন অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কিছু ফল দেখালেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, ব্যয় এবং সামরিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। আপাতত এই মিশন বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

মার্কিন সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। ব্যয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক প্রস্তুতির প্রশ্নে নতুন আলোচনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

মার্কিন সীমান্তে সেনা মোতায়েনের শেষ কোথায়? ব্যয়, নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

০৫:৫২:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন ও মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সেনা মোতায়েনের যে অভিযান শুরু হয়েছিল, তা এক বছরের বেশি সময় পার করলেও শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। সীমান্তে অবৈধ পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও হাজার হাজার সেনা এখনো টহলে রয়েছে। এতে একদিকে চোরাকারবারি ও মাদক চক্রের ওপর চাপ বেড়েছে, অন্যদিকে ব্যয় ও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি

প্রায় দুই হাজার মাইলজুড়ে বিস্তৃত দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার সক্রিয় সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছে। হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া যান এবং পদাতিক টহলের মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর এই উপস্থিতির ফলে অনেক চোরাচালানকারী ও অপরাধী চক্রকে দুর্গম পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকায় সরে যেতে হয়েছে।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এই সাফল্যের মূল্যও কম নয়। প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে

সীমান্তে মোতায়েন সেনাদের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার পর সেনাসদস্যদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে অনুপ্রবেশ এবং হুমকিমূলক বার্তা পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।

যদিও এখন পর্যন্ত কোনো ড্রোন হামলা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, তবু সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর হুমকি মোকাবিলা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সেনাবাহিনী ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, উন্নত সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করেছে।

U.S. Border Troop Mission Continues as Crossings Decline | Border News |  myheraldreview.com

প্রযুক্তির পরীক্ষাগার হয়ে উঠছে সীমান্ত

এই সীমান্ত মিশন এখন নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও পরিণত হয়েছে। ড্রোন শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, দূরনিয়ন্ত্রিত নজরদারি প্রযুক্তি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। যৌথ টহল ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু থেকে শত শত নজরদারি ও গোয়েন্দা উড্ডয়ন পরিচালনা করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্যয় ও প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন

সীমান্ত অভিযানের সমালোচকেরা বলছেন, এই মিশনের কারণে সেনাবাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধ প্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাদের মতে, যে সেনারা অন্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, তারা দীর্ঘ সময় সীমান্তে ব্যস্ত থাকায় সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। অভিযান শুরুর প্রথম কয়েক মাসেই শত শত মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এরপর মোট ব্যয় কত দাঁড়িয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী অনেক সেনাসদস্য মনে করেন, বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার সুযোগ তাদের দক্ষতা বাড়াচ্ছে। টহল, নজরদারি ও অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে তারা মনে করেন।

শেষের কোনো লক্ষণ নেই

বর্তমানে সীমান্তে সামরিক ভূমিকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। সীমান্তসংলগ্ন কয়েকটি এলাকাকে সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অস্থায়ীভাবে আটক রাখার ক্ষমতাও সেনাদের দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে সীমান্তে সেনা মোতায়েন অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কিছু ফল দেখালেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, ব্যয় এবং সামরিক প্রস্তুতির ওপর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। আপাতত এই মিশন বন্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

মার্কিন সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি সেনা মোতায়েন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক। ব্যয়, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক প্রস্তুতির প্রশ্নে নতুন আলোচনা।