০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
গ্রীষ্মকালীন দাভোসে চীনের বার্তা: উদ্ভাবনের শক্তি ছড়িয়ে দিতে চায় বিশ্বজুড়ে ভারত-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদারে নতুন আলোচনা কাতারের গ্যাস প্ল্যান্টে নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাটকীয় মুহূর্তে আলোচিত বুর্গেনস্টক সম্মেলন: ভ্যান্স, মুনির ও আরাঘচিকে ঘিরে পাঁচ আলোচিত ঘটনা লখনউয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জনের মৃত্যু, অধিকাংশই শিক্ষার্থী বিশ্বকাপে আজ ইংল্যান্ড-ঘানা মহারণ, পর্তুগালের সামনে উজবেকিস্তান চ্যালেঞ্জ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথে ইরান, জাহাজ চলাচলে ফি আদায়ের আশঙ্কা ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বদলে যাচ্ছে আমেরিকার জ্বালানি অভ্যাস, পেট্রোলের চাহিদা কি আর আগের অবস্থায় ফিরবে? হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮৬ হাসিনা ফিরে এলে ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করাদের জীবন কালো করে দেবে: সংসদে এমপি রানু

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল: অর্থ দেবে কে, প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং কারা এতে অর্থায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

সমঝোতা স্মারকে কী আছে?

চুক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরির অঙ্গীকার করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ছাড়পত্র ও লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে তহবিলে কারা অর্থ দেবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আবারও তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ছাড়পত্র জারি করবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তহবিলের উল্লেখ মূলত ইরানকে দেখানোর জন্য যে চুক্তির শর্ত মেনে চললে অর্থনৈতিক সুবিধার বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে—এটি প্রমাণিত হলেই কেবল এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

মার্কিন করদাতাদের অর্থ নয়

যুক্তরাষ্ট্রে এই তহবিল নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিকের দাবি, এটি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মন্তব্য করেছেন, যদি পশ্চিমা দেশগুলো এই অর্থ দেয়, তাহলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপ পুনর্গঠনের মার্শাল পরিকল্পনার মতো হবে, তবে সেই অবস্থায় যখন জার্মানিতে নাৎসি নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতায় রয়েছে।

অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকে ইরান “এক পয়সাও” পাবে না।

উপসাগরীয় দেশগুলো কি এগিয়ে আসবে?

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত ‘আঞ্চলিক অংশীদার’ বলতে মূলত ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এসব দেশের অনেক স্থাপনা।

তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ এখনো প্রকাশ্যে এই তহবিলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্প্রতি বলেছেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা যৌথ বিনিয়োগের আগে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া এবং বিশ্বাস পুনঃস্থাপনই প্রথম অগ্রাধিকার।

সৌদি বিশ্লেষক হিশাম আলঘান্নামের ভাষায়, নিরাপত্তা ও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া বৃহৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

জমাট সম্পদ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

চুক্তিতে ইরানের স্থগিত বা জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এসব অর্থ কোনোভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে না।

জেডি ভ্যান্স জানান, কাতার এবং জ্যারেড কুশনারের অংশগ্রহণে এই সম্পদ ব্যবহারের একটি বিকল্প কাঠামো নিয়ে কাজ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার উভয়েই সেই প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জন্য উন্মুক্ত হওয়া অর্থের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য—বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম—ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যা একদিকে ইরানের খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে, অন্যদিকে মার্কিন কৃষকদেরও লাভবান করবে।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল এখনো কাগজে-কলমে একটি প্রস্তাব মাত্র। অর্থায়নের উৎস, তহবিল পরিচালনার কাঠামো এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ—সবকিছুই আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। ফলে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইরানের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল

ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের প্রস্তাব এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায়। তবে অর্থ দেবে কারা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রীষ্মকালীন দাভোসে চীনের বার্তা: উদ্ভাবনের শক্তি ছড়িয়ে দিতে চায় বিশ্বজুড়ে

ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল: অর্থ দেবে কে, প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা

০৫:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অন্যতম আলোচিত অংশ হলো ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব। তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কোথা থেকে আসবে এবং কারা এতে অর্থায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।

সমঝোতা স্মারকে কী আছে?

চুক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা তৈরির অঙ্গীকার করেছে। নথিতে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, ছাড়পত্র ও লাইসেন্স দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে তহবিলে কারা অর্থ দেবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উল্লেখ নেই।

নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তেহরানকে আবারও তেল বিক্রির সুযোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ছাড়পত্র জারি করবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তহবিলের উল্লেখ মূলত ইরানকে দেখানোর জন্য যে চুক্তির শর্ত মেনে চললে অর্থনৈতিক সুবিধার বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় ইরান চুক্তির শর্ত মেনে চলছে—এটি প্রমাণিত হলেই কেবল এসব সুবিধা কার্যকর হবে।

মার্কিন করদাতাদের অর্থ নয়

যুক্তরাষ্ট্রে এই তহবিল নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক রক্ষণশীল রাজনীতিকের দাবি, এটি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মন্তব্য করেছেন, যদি পশ্চিমা দেশগুলো এই অর্থ দেয়, তাহলে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপ পুনর্গঠনের মার্শাল পরিকল্পনার মতো হবে, তবে সেই অবস্থায় যখন জার্মানিতে নাৎসি নেতৃত্ব এখনো ক্ষমতায় রয়েছে।

অন্যদিকে জেডি ভ্যান্স স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই চুক্তির অধীনে মার্কিন করদাতাদের অর্থ থেকে ইরান “এক পয়সাও” পাবে না।

উপসাগরীয় দেশগুলো কি এগিয়ে আসবে?

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমঝোতা স্মারকে উল্লেখিত ‘আঞ্চলিক অংশীদার’ বলতে মূলত ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এসব দেশের অনেক স্থাপনা।

তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা অন্য কোনো উপসাগরীয় দেশ এখনো প্রকাশ্যে এই তহবিলে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্প্রতি বলেছেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা যৌথ বিনিয়োগের আগে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন জরুরি। তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া এবং বিশ্বাস পুনঃস্থাপনই প্রথম অগ্রাধিকার।

সৌদি বিশ্লেষক হিশাম আলঘান্নামের ভাষায়, নিরাপত্তা ও যাচাইযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া বৃহৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতায় যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

জমাট সম্পদ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা

চুক্তিতে ইরানের স্থগিত বা জব্দ থাকা সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এসব অর্থ কোনোভাবেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হবে না।

জেডি ভ্যান্স জানান, কাতার এবং জ্যারেড কুশনারের অংশগ্রহণে এই সম্পদ ব্যবহারের একটি বিকল্প কাঠামো নিয়ে কাজ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার উভয়েই সেই প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি করবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের জন্য উন্মুক্ত হওয়া অর্থের একটি অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য—বিশেষ করে সয়াবিন, ভুট্টা ও গম—ক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, যা একদিকে ইরানের খাদ্য সরবরাহে সহায়তা করবে, অন্যদিকে মার্কিন কৃষকদেরও লাভবান করবে।

৩০০ বিলিয়ন ডলারের এই তহবিল এখনো কাগজে-কলমে একটি প্রস্তাব মাত্র। অর্থায়নের উৎস, তহবিল পরিচালনার কাঠামো এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ—সবকিছুই আগামী কয়েক সপ্তাহের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে। ফলে ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা এগোবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ইরানের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল

ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের প্রস্তাব এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায়। তবে অর্থ দেবে কারা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।