বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থে কথা বলার সুযোগ থাকলে তাঁর দল সংসদে থাকবে, তবে যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে সংসদে কথা বলে কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না, তাহলে তারা সংসদ ছেড়ে চলে যাবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত বলে দাবি করা গুম, হত্যা ও গণহত্যার বিচার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশটি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন অনুষ্ঠিত হয়, যখন দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
সংসদে থাকার শর্তের কথা তুলে ধরেন
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থে কথা বলার পরিবেশ যতদিন থাকবে এবং সেই বক্তব্য প্রয়োজনীয় মনে হবে, ততদিন তারা সংসদে থাকবেন। তবে এমন দিন এলে, যখন সংসদে বক্তব্য দিয়ে কোনো উপকার হবে না বলে মনে হবে, তখন সেখানে থাকার প্রয়োজনও থাকবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের সময় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২০০ জনেরও বেশি বিএনপির কর্মী-সমর্থক। তাঁর ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দল যদি নিজের কর্মীদের প্রতিই দায়িত্বশীল না হয়, তাহলে দেশের কোটি কোটি মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনের প্রশ্নও উঠে আসে।
‘একদলীয় শাসনের’ অভিযোগ
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মাধ্যমে দেশকে আবারও একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে নতুন আন্দোলন বা “বিপ্লব” গড়ে তোলা হবে।
তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সহিংসতা, ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডি, গুম, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করেন।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন নিয়োগের কারণে ধীরগতির হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান বিন হাদী এবং গত ২১ জুন গাইবান্ধায় নিহত এক শিবির নেতার মৃত্যুর ঘটনাসহ অন্যান্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তও দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ ও ফ্যাসিবাদ দেশের জন্য এক ধরনের “ভাইরাসে” পরিণত হয়েছে। এসব প্রবণতা থেকে দেশকে মুক্ত করতে নতুন আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভবিষ্যৎ আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার ঘোষণা
জামায়াতের আমির বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলনে তাঁর দল সামনের সারিতে থাকবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের দিকে কোনো বৈরী দৃষ্টি পড়তে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত কোনো ধরনের অন্যায় বা অবিচারের সঙ্গে আপস করবে না এবং পুরোনো কিংবা নতুন—কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদকেই গ্রহণ করবে না।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ডা. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ।
জামায়াত আমিরের নতুন বিপ্লবের আহ্বান, সংসদ ছাড়ার হুঁশিয়ারি
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে কথা বলার সুযোগ না থাকলে সংসদে থাকার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে তিনি নতুন আন্দোলনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















