ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবন থেকে প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থীর লাফিয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সোমবার দুপুরে লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার তিনতলা একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটিতে একটি গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র, একটি পাঠাগার এবং একটি পোষা প্রাণীর দোকান ছিল। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরে থাকা বহু মানুষ আটকা পড়েন।
আগুন থেকে বাঁচতে ভবন থেকে লাফ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে লাফিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন তরুণ ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় মানুষ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা লোকজন বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি।
তিন মালিক গ্রেপ্তার
ঘটনার পর ভবনটির যৌথ মালিক রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা ও তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নির্মাণসংক্রান্ত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগুনের উৎস নিয়ে প্রাথমিক ধারণা
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নালিতে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। পরে ঘন ধোঁয়া দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় অনেকেই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসরোধে আক্রান্ত হন।
অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। পরে ১২টি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উদ্ধারকাজে দেয়াল ভেঙে প্রবেশ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের ভবনের পেছনের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত বের করে আনা সম্ভব হয়।
এদিকে ভবনের নিচতলায় থাকা একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে আগুনে অন্তত চারটি প্রাণী মারা গেছে।
তদন্তে বিশেষ দল
ঘটনার পর উত্তর প্রদেশ সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা সহায়তার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
লখনউয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও জনবহুল বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
লখনউয়ের বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন নিহত, অধিকাংশই শিক্ষার্থী। ভবনের নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















