০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি জাতিসংঘ অধিবেশনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান পাকিস্তানের থার্ড পার্টি অ্যাপ হ্যাক করে বিগকমার্সের ক্রেতাদের তথ্য ফাঁস ইসলামাবাদে পিটিআই নেতাদের বাড়িতে অভিযানের অভিযোগ, এসএসপিকে তলব হাইকোর্টের পোলিও টিকাদান দলের নিরাপত্তায় হামলা, বেলুচিস্তানে ২ পুলিশ সদস্য নিহত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রে আবারও আলোচনার ইঙ্গিত, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ‘সোনালি সুযোগ’ বলছে তেহরান সিঁড়ি ভাঙার এই সহজ অভ্যাসই বাড়াতে পারে আয়ু, বলছেন চিকিৎসকেরা বিগ ফার্মার প্রবৃদ্ধির সংকট, সমাধান হতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ অধিগ্রহণ ইয়েমেনের হুথিদের চাপে সৌদি আরব: তেলের পথ থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি নয়, নিজেকে ভালোবাসার ১০ উপায়

নাটকীয় মুহূর্তে আলোচিত বুর্গেনস্টক সম্মেলন: ভ্যান্স, মুনির ও আরাঘচিকে ঘিরে পাঁচ আলোচিত ঘটনা

সুইজারল্যান্ডের শান্ত ও মনোরম বুর্গেনস্টক সপ্তাহান্তে পরিণত হয়েছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ইসলামাবাদ স্মারকের বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করতে সেখানে মুখোমুখি হন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার টেবিলের বাইরে কিছু মুহূর্তও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লুসার্ন হ্রদের তীরে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আয়োজক পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। কাতারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

ভ্যান্সের প্রশংসায় মুনির

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জেডি ভ্যান্স এক হালকা মেজাজের মন্তব্য করে উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির একজন ভারতীয় এবং অন্যজন পাকিস্তানি। ভারতীয় ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী, আর পাকিস্তানি ব্যক্তি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

ভ্যান্স আরও বলেন, গত তিন মাসে তিনি সম্ভবত অন্য যেকোনো ব্যক্তির তুলনায় আসিম মুনিরের সঙ্গে বেশি কথা বলেছেন। তাঁর এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

‘আমরা পাকিস্তানকে ভালোবাসি’

সম্মেলন শুরুর আগে সাংবাদিকরা পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভ্যান্স সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, “খুব ভালো।”

এরপর হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানকে ভালোবাসি, ধন্যবাদ।” সঙ্গে ছিল একটি থাম্বস-আপ ইশারা। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

Bürgenstock Blow-Up: Pakistan Scrambles As Araghchi Refuses Photo, Iran  Walks Out Of US Talks | World News - News18

শাহবাজ শরিফের জার্মান ভাষা চর্চা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন বলে পরিচিত। সম্মেলনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জার্মান ভাষায়ও কথা বলেন।

দীর্ঘদিনের ভাষাগত দক্ষতার এই ঝলক অনেকের নজর কাড়ে এবং সম্মেলনের আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ক্যামেরার সামনে ভ্যান্সকে এড়িয়ে গেলেন আরাঘচি?

সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য ছিল ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যকার দূরত্ব। পরিকল্পিত করমর্দন ও যৌথ আলোকচিত্রে অংশ নিতে রাজি হয়নি ইরানের প্রতিনিধি দল।

এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠককক্ষে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে আলিঙ্গন করেন। তবে তিনি জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ করেননি। ভ্যান্সও কক্ষের পেছনে অবস্থান করেন যতক্ষণ না আরাঘচি সরে যান। পরে তিনি শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনিরের সঙ্গে আলাপ করেন।

উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ভেন্যুতে পৌঁছানোর পর ক্যামেরায় ধরা পড়ে আরেকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। আসিম মুনিরকে দেখে জেডি ভ্যান্স অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে শুভেচ্ছা জানান।

অন্যদিকে স্টিভ উইটকফকে আলিঙ্গনের সময় মুনিরকে “আমার ভাই” বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই আন্তরিক আচরণও সম্মেলনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

বুর্গেনস্টকের এই বৈঠক মূলত মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আয়োজন করা হলেও, আলোচনার বাইরের এসব মানবিক ও প্রতীকী মুহূর্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানভাবে নজর কেড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কারাগার যখন রাজনৈতিক অস্ত্র: রাশিয়ায় ভয় ও নীরবতার রাজনীতি

নাটকীয় মুহূর্তে আলোচিত বুর্গেনস্টক সম্মেলন: ভ্যান্স, মুনির ও আরাঘচিকে ঘিরে পাঁচ আলোচিত ঘটনা

০৭:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সুইজারল্যান্ডের শান্ত ও মনোরম বুর্গেনস্টক সপ্তাহান্তে পরিণত হয়েছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। ইসলামাবাদ স্মারকের বিভিন্ন দিক চূড়ান্ত করতে সেখানে মুখোমুখি হন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার টেবিলের বাইরে কিছু মুহূর্তও ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

লুসার্ন হ্রদের তীরে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আয়োজক পাকিস্তানের নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। কাতারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

ভ্যান্সের প্রশংসায় মুনির

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জেডি ভ্যান্স এক হালকা মেজাজের মন্তব্য করে উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির একজন ভারতীয় এবং অন্যজন পাকিস্তানি। ভারতীয় ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী, আর পাকিস্তানি ব্যক্তি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।

ভ্যান্স আরও বলেন, গত তিন মাসে তিনি সম্ভবত অন্য যেকোনো ব্যক্তির তুলনায় আসিম মুনিরের সঙ্গে বেশি কথা বলেছেন। তাঁর এই মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

‘আমরা পাকিস্তানকে ভালোবাসি’

সম্মেলন শুরুর আগে সাংবাদিকরা পাকিস্তানের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে ভ্যান্স সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, “খুব ভালো।”

এরপর হাসিমুখে তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানকে ভালোবাসি, ধন্যবাদ।” সঙ্গে ছিল একটি থাম্বস-আপ ইশারা। এই সংক্ষিপ্ত মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

Bürgenstock Blow-Up: Pakistan Scrambles As Araghchi Refuses Photo, Iran  Walks Out Of US Talks | World News - News18

শাহবাজ শরিফের জার্মান ভাষা চর্চা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন বলে পরিচিত। সম্মেলনে উপস্থিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জার্মান ভাষায়ও কথা বলেন।

দীর্ঘদিনের ভাষাগত দক্ষতার এই ঝলক অনেকের নজর কাড়ে এবং সম্মেলনের আলোচিত মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

ক্যামেরার সামনে ভ্যান্সকে এড়িয়ে গেলেন আরাঘচি?

সম্মেলনের অন্যতম আলোচিত দৃশ্য ছিল ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যকার দূরত্ব। পরিকল্পিত করমর্দন ও যৌথ আলোকচিত্রে অংশ নিতে রাজি হয়নি ইরানের প্রতিনিধি দল।

এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৈঠককক্ষে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে আলিঙ্গন করেন। তবে তিনি জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে কোনো সরাসরি যোগাযোগ করেননি। ভ্যান্সও কক্ষের পেছনে অবস্থান করেন যতক্ষণ না আরাঘচি সরে যান। পরে তিনি শাহবাজ শরিফ ও আসিম মুনিরের সঙ্গে আলাপ করেন।

উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময়

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ভেন্যুতে পৌঁছানোর পর ক্যামেরায় ধরা পড়ে আরেকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্য। আসিম মুনিরকে দেখে জেডি ভ্যান্স অনানুষ্ঠানিক ভঙ্গিতে শুভেচ্ছা জানান।

অন্যদিকে স্টিভ উইটকফকে আলিঙ্গনের সময় মুনিরকে “আমার ভাই” বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। দুই দেশের প্রতিনিধিদের এই আন্তরিক আচরণও সম্মেলনের স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি হয়ে ওঠে।

বুর্গেনস্টকের এই বৈঠক মূলত মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আয়োজন করা হলেও, আলোচনার বাইরের এসব মানবিক ও প্রতীকী মুহূর্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমানভাবে নজর কেড়েছে।