০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৩ শিক্ষার্থী, বুলিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোর ভারতের মূল শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ২১ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, মে মাসে নেমে এলো ০.৫ শতাংশে দূরবর্তী কাজের সুযোগে বদলাচ্ছে পরিবার-জীবনের সমীকরণ, স্বস্তিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা সাভারে হত্যা মামলার আসামি পালানোয় তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত জামায়াত আমিরের ‘নতুন বিপ্লব’ হুঁশিয়ারি, সংসদে কথা বলার সুযোগ না পেলে থাকার প্রশ্ন নেই ডগলাস লিমের নতুন মাইলফলক, উৎসব যাত্রা শুরু ‘হার সেকেন্ড অ্যাক্ট’-এর ‘আইটেম গান’ নয়, নারীশরীরের দৃষ্টি: তামান্নার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক স্টার সিনেপ্লেক্সে সপ্তাহজুড়ে বাংলা ছবির গ্রীষ্ম উৎসব

এআই নির্মিত সিনেমায় নেই আত্মা, বললেন টনি লিউং

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি চলচ্চিত্র শিল্পে দ্রুত প্রভাব ফেললেও এ ধরনের সিনেমায় মানবিক অনুভূতি ও সৃজনশীলতার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের কিংবদন্তি অভিনেতা টনি লিউং। তাঁর মতে, প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণকে সহজ করতে পারে, কিন্তু শিল্পের মূল শক্তি মানুষের কল্পনা ও অনুভূতি থেকেই আসে।

এআই নিয়ে উদ্বেগ

৬৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা বর্তমানে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই একদিকে সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে, অন্যদিকে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টনি লিউংয়ের বিশ্বাস, মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলো এআই প্রযুক্তি থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। তবে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র তথ্য ও হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি কোনো কাজকে প্রকৃত সৃজনশীল শিল্প বলা কঠিন।

চলচ্চিত্র কি শুধু প্রযুক্তি?

সম্প্রতি উৎসবে এআই সহায়তায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টনি লিউংকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এআই দিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব হলেও সেখানে “আত্মা” অনুপস্থিত থাকে।

তাঁর ভাষায়, শিল্পকর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মানবিক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা। সেই জায়গায় প্রযুক্তি এখনও মানুষের বিকল্প হতে পারেনি।

সিনেমা হলের অভিজ্ঞতার পক্ষে

বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও গেম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ক্ষুদ্র ভিডিও কনটেন্টের জনপ্রিয়তা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে টনি লিউং এখনও বড় পর্দার অভিজ্ঞতাকেই সিনেমার প্রকৃত রূপ বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। ছোটবেলায় বিশাল পর্দায় সিনেমা দেখার স্মৃতি মনে করে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সময়ের সঙ্গে পর্দার আকার যেমন ছোট হয়েছে, তেমনি বদলে গেছে দর্শকের অভিজ্ঞতাও।

There's no soul': Tony Leung weighs in on AI in filmmaking - The Economic  Times

সৃজনশীলতার জন্য দরকার স্বাধীনতা

হংকং চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম মুখ টনি লিউং মনে করেন, ছোট বাজেটের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব প্রকল্প নির্মাতাদের নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেয়।

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্য আনতে সৃজনশীল স্বাধীনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা থাকলে নতুন ধরনের গল্প ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

গাছপালা নিয়েও নতুন ভাবনা

টনি লিউংয়ের নতুন চলচ্চিত্রে একটি গিংকো গাছ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। এই কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, উদ্ভিদেরও নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ অনেক সময় বিশৃঙ্খল মনে হলেও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সম্পাদনার পর একটি কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

প্রকল্প বাছাইয়ের নিজস্ব দর্শন

বর্তমানে টনি লিউং তিনটি নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে একজন খ্যাতিমান পরিচালকের সঙ্গে চলচ্চিত্র, ভারতভিত্তিক একটি প্রযোজনা এবং একটি ধারাবাহিক।

কোনো প্রকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প বা ধরন নয়, বরং পরিচালকের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে সত্যনিষ্ঠ হওয়াই একজন শিল্পীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারলেই একটি চলচ্চিত্র তার প্রকৃত সাফল্য অর্জন করে।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে টনি লিউংয়ের খোলামেলা মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝেও তিনি মনে করিয়ে দিলেন, শিল্পের প্রাণশক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের অনুভূতি, কল্পনা এবং সত্যনিষ্ঠতার মধ্যেই নিহিত।

মেটা বর্ণনা: এআই নির্মিত চলচ্চিত্রে আত্মা ও সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা টনি লিউং।

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম

এআই নির্মিত সিনেমায় নেই আত্মা, বললেন টনি লিউং

০৮:১৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি চলচ্চিত্র শিল্পে দ্রুত প্রভাব ফেললেও এ ধরনের সিনেমায় মানবিক অনুভূতি ও সৃজনশীলতার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের কিংবদন্তি অভিনেতা টনি লিউং। তাঁর মতে, প্রযুক্তি চলচ্চিত্র নির্মাণকে সহজ করতে পারে, কিন্তু শিল্পের মূল শক্তি মানুষের কল্পনা ও অনুভূতি থেকেই আসে।

এআই নিয়ে উদ্বেগ

৬৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা বর্তমানে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এআই একদিকে সময় ও অর্থ সাশ্রয় করে, অন্যদিকে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টনি লিউংয়ের বিশ্বাস, মূলধারার বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রগুলো এআই প্রযুক্তি থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে। তবে তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র তথ্য ও হিসাবের ওপর ভিত্তি করে তৈরি কোনো কাজকে প্রকৃত সৃজনশীল শিল্প বলা কঠিন।

চলচ্চিত্র কি শুধু প্রযুক্তি?

সম্প্রতি উৎসবে এআই সহায়তায় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে টনি লিউংকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এআই দিয়ে চলচ্চিত্র তৈরি করা সম্ভব হলেও সেখানে “আত্মা” অনুপস্থিত থাকে।

তাঁর ভাষায়, শিল্পকর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো মানবিক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা। সেই জায়গায় প্রযুক্তি এখনও মানুষের বিকল্প হতে পারেনি।

সিনেমা হলের অভিজ্ঞতার পক্ষে

বর্তমান সময়ে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, ভিডিও গেম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ক্ষুদ্র ভিডিও কনটেন্টের জনপ্রিয়তা চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে টনি লিউং এখনও বড় পর্দার অভিজ্ঞতাকেই সিনেমার প্রকৃত রূপ বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে সিনেমা দেখা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। ছোটবেলায় বিশাল পর্দায় সিনেমা দেখার স্মৃতি মনে করে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সময়ের সঙ্গে পর্দার আকার যেমন ছোট হয়েছে, তেমনি বদলে গেছে দর্শকের অভিজ্ঞতাও।

There's no soul': Tony Leung weighs in on AI in filmmaking - The Economic  Times

সৃজনশীলতার জন্য দরকার স্বাধীনতা

হংকং চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের অন্যতম মুখ টনি লিউং মনে করেন, ছোট বাজেটের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব প্রকল্প নির্মাতাদের নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ দেয়।

তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্রে বৈচিত্র্য আনতে সৃজনশীল স্বাধীনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা থাকলে নতুন ধরনের গল্প ও ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

গাছপালা নিয়েও নতুন ভাবনা

টনি লিউংয়ের নতুন চলচ্চিত্রে একটি গিংকো গাছ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে উপস্থিত রয়েছে। এই কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, উদ্ভিদেরও নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও পরিবেশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ অনেক সময় বিশৃঙ্খল মনে হলেও সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নতুন কিছু সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সম্পাদনার পর একটি কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নিতে পারে।

প্রকল্প বাছাইয়ের নিজস্ব দর্শন

বর্তমানে টনি লিউং তিনটি নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করছেন। এর মধ্যে রয়েছে একজন খ্যাতিমান পরিচালকের সঙ্গে চলচ্চিত্র, ভারতভিত্তিক একটি প্রযোজনা এবং একটি ধারাবাহিক।

কোনো প্রকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গল্প বা ধরন নয়, বরং পরিচালকের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, নিখুঁত হওয়ার চেয়ে সত্যনিষ্ঠ হওয়াই একজন শিল্পীর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কারণ দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছাতে পারলেই একটি চলচ্চিত্র তার প্রকৃত সাফল্য অর্জন করে।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে টনি লিউংয়ের খোলামেলা মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝেও তিনি মনে করিয়ে দিলেন, শিল্পের প্রাণশক্তি শেষ পর্যন্ত মানুষের অনুভূতি, কল্পনা এবং সত্যনিষ্ঠতার মধ্যেই নিহিত।

মেটা বর্ণনা: এআই নির্মিত চলচ্চিত্রে আত্মা ও সৃজনশীলতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা টনি লিউং।