অভিনেত্রী কোয়াজি নওশাবা আহমেদ এবার নতুন পরিচয়ে দর্শকের সামনে আসছেন। অভিনয়ের পরিচিত পরিসর পেরিয়ে তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন ‘সোমেশ্বরী’ সিনেমার মাধ্যমে। ছবিটির কেন্দ্রে আছে উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ, নদী, পরিবেশ বিপর্যয় এবং আধুনিকতার চাপে বদলে যাওয়া মানুষের জীবন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সিনেমায় শহুরে প্রেম, পারিবারিক গল্প, অ্যাকশন বা তারকানির্ভর বিনোদনের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশভিত্তিক গল্পও নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই জায়গায় ‘সোমেশ্বরী’ একটি আলাদা সংযোজন হতে পারে।
নদী শুধু পটভূমি নয়
‘সোমেশ্বরী’ নামটিই ছবির ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানকে সামনে আনে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও সোমেশ্বরী নদীর আশপাশে ছবিটির শুটিং হয়েছে। নদী এখানে শুধু দৃশ্যপট নয়; এটি মানুষের জীবন, স্মৃতি, জীবিকা ও সংকটের অংশ। বাংলাদেশে নদীভাঙন, বালু উত্তোলন, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বহু মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতা যদি সিনেমার ভাষায় আসে, তবে তা দর্শকের কাছে পরিচিত হয়েও নতুনভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।
স্থানীয় মানুষ ও নতুন মুখ
ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানীয় মানুষ ও নতুন অভিনয়শিল্পীদের যুক্ত করা। গ্রাম, নদী ও মানুষের গল্প বলার ক্ষেত্রে স্থানীয় উপস্থিতি ছবির বাস্তবতাকে আরও গভীর করতে পারে। এতে সিনেমাটি বাইরের চোখে দেখা গ্রামবাংলার ছবি হয়ে থাকে না; বরং সেই অঞ্চলের মানুষ, ভাষা, অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়।

নারী নির্মাতার নতুন যাত্রা
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নারী নির্মাতার সংখ্যা এখনও সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে নওশাবার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনায় আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তিনি দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ, কিন্তু পরিচালকের আসনে তাকে নতুনভাবে দেখা যাবে। অভিনয়ের অভিজ্ঞতা গল্প বলার ভাষায় কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেটিও দর্শকের আগ্রহের বিষয়।
বাংলা সিনেমার নতুন সম্ভাবনা
‘সোমেশ্বরী’ যদি নদী, পরিবেশ ও গ্রামীণ জীবনের গল্পকে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরে, তবে এটি বাংলা সিনেমার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হতে পারে। বাংলাদেশের বাস্তবতার বড় অংশই প্রকৃতি ও মানুষের সম্পর্কের মধ্যে গড়ে উঠেছে। সেই সম্পর্কের ভাঙন, টানাপোড়েন ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম যত বেশি সিনেমায় আসবে, তত বেশি স্থানীয় গল্প আন্তর্জাতিক ভাষা পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















