গাজায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং এ কর্মকাণ্ড চলমান গণহত্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। নতুন এক প্রতিবেদনে কমিশন দাবি করেছে, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডে বিপুলসংখ্যক শিশু নিহত ও আহত হয়েছে, যা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত বহন করে।
শিশুদের ওপর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আঘাত
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় সামরিক অভিযানের ব্যাপকতা ও ধারাবাহিকতা শিশুদের জন্য নজিরবিহীন প্রাণহানি, শারীরিক ক্ষতি এবং মানসিক ট্রমা সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুদের ওপর আঘাত কেবল যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; বরং এটি বৃহত্তর ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ অস্তিত্বকে দুর্বল করার একটি অংশ।
তদন্ত কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুদের হত্যা ও পঙ্গুত্বের ঘটনা গাজার সামাজিক ও জনসংখ্যাগত কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশও হুমকির মুখে পড়ছে।

মানবিক সংকট আরও গভীর
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে, অনেকে স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। বারবার বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ভেঙে পড়া ব্যবস্থা শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব প্রায় মুছে দিয়েছে।
তদন্তকারীরা আরও বলেন, গাজার অবরোধ নবজাতক ও মাতৃস্বাস্থ্যের ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। জনস্বাস্থ্যব্যবস্থার পতনের ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইসরায়েল এর অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদনকে পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তদন্তকারীরা হামাসের কর্মকাণ্ড ও শিশুদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেননি।
শিশু হতাহতের উদ্বেগজনক চিত্র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় সরাসরি সংঘাতের কারণে ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত এবং ৪৪ হাজারের বেশি শিশু আহত হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এসব ঘটনা ফিলিস্তিনি সমাজের ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকে দুর্বল করছে।
এদিকে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও শিশু হতাহতের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুদের ওপর গুলি, বোমা হামলা এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক আক্রমণের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

জবাবদিহির আহ্বান
তদন্ত কমিশন সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংঘাত চলাকালে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং অন্যান্য গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে। একই সঙ্গে গাজা ও পশ্চিম তীরে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
গাজায় শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ নিয়ে নতুন এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও আলোচনা আরও তীব্র করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজায় শিশুদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের নতুন প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















