০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

গাজীপুরে ১,৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধ, স্থায়ীভাবে তালাবদ্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স ও ইউনিক ওয়াশিং

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড আর্থিক সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে তারা এখন অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি।

কারখানা বন্ধে শ্রমিকদের দুশ্চিন্তা

কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। অনেক শ্রমিকই পরিবার-পরিজনের একমাত্র উপার্জনকারী। তাদের অভিযোগ, হঠাৎ কর্মসংস্থান হারানোর ফলে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা এবং চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বন্ধের কারণে বহু পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তারা এখন পাওনা অর্থ সময়মতো পরিশোধ হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কিত।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

গাজীপুর শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ জুন থেকে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের জন্য কী সিদ্ধান্ত হলো

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বাকি ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সব বকেয়া বেতন দেওয়া হবে।

এ ছাড়া চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ পে হিসেবে দেওয়া হবে। চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিটও পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের রিজাইন বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমা থাকা অর্থও পরিশোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

চুক্তি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের আপত্তি

তবে এই সমঝোতা চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে কারখানা পুনরায় চালুর পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, চুক্তিতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব ধরনের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বড় এই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ১,৮০০ শ্রমিকই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে ইউনিক ডিজাইনার্স ও ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ১,৮০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। পাওনা পরিশোধ নিয়ে হয়েছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

গাজীপুরে ১,৮০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান বন্ধ, স্থায়ীভাবে তালাবদ্ধ ইউনিক ডিজাইনার্স ও ইউনিক ওয়াশিং

০৮:২৮:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় অবস্থিত ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড আর্থিক সংকটসহ নানা জটিলতার কারণে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল হারিয়ে তারা এখন অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও আর্থিক সংকটের মুখোমুখি।

কারখানা বন্ধে শ্রমিকদের দুশ্চিন্তা

কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। অনেক শ্রমিকই পরিবার-পরিজনের একমাত্র উপার্জনকারী। তাদের অভিযোগ, হঠাৎ কর্মসংস্থান হারানোর ফলে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা এবং চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির বন্ধের কারণে বহু পরিবার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তারা এখন পাওনা অর্থ সময়মতো পরিশোধ হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কিত।

কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

গাজীপুর শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৬ জুন থেকে কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, সার্ভিস বেনিফিট ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ), শ্রম অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিকদের জন্য কী সিদ্ধান্ত হলো

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বাকি ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সব বকেয়া বেতন দেওয়া হবে।

এ ছাড়া চাকরি অবসানের কারণে শ্রমিকদের ৩০ দিনের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ পে হিসেবে দেওয়া হবে। চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের মূল বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিটও পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের রিজাইন বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমা থাকা অর্থও পরিশোধ করা হবে বলে সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের সব পাওনা একযোগে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

চুক্তি নিয়ে শ্রমিক নেতাদের আপত্তি

তবে এই সমঝোতা চুক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা। তাদের দাবি, ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে সৃষ্ট সংকট আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলেও পরে কারখানা পুনরায় চালুর পরিবর্তে স্থায়ীভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, চুক্তিতে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সব ধরনের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে অনেক শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে বড় এই কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু ১,৮০০ শ্রমিকই নয়, তাদের ওপর নির্ভরশীল হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গাজীপুরে ইউনিক ডিজাইনার্স ও ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় ১,৮০০ শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। পাওনা পরিশোধ নিয়ে হয়েছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা।