০৯:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৩ শিক্ষার্থী, বুলিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোর ভারতের মূল শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ২১ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, মে মাসে নেমে এলো ০.৫ শতাংশে দূরবর্তী কাজের সুযোগে বদলাচ্ছে পরিবার-জীবনের সমীকরণ, স্বস্তিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা সাভারে হত্যা মামলার আসামি পালানোয় তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত জামায়াত আমিরের ‘নতুন বিপ্লব’ হুঁশিয়ারি, সংসদে কথা বলার সুযোগ না পেলে থাকার প্রশ্ন নেই ডগলাস লিমের নতুন মাইলফলক, উৎসব যাত্রা শুরু ‘হার সেকেন্ড অ্যাক্ট’-এর ‘আইটেম গান’ নয়, নারীশরীরের দৃষ্টি: তামান্নার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক স্টার সিনেপ্লেক্সে সপ্তাহজুড়ে বাংলা ছবির গ্রীষ্ম উৎসব

পাঁচ দশকের স্মৃতি শেষে বিক্রির পথে মমতা সিনেমা

নরসিংদীর মাধবদীর পুরোনো সিনেমা হল মমতা সিনেমা বিক্রির পথে। প্রায় ৪৭ বছরের যাত্রা শেষে হলটির সামনে বিক্রির ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একটি সিনেমা হল বিক্রি হয়ে যাওয়া শুধু একটি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের জেলা শহরের সিনেমা সংস্কৃতির দীর্ঘ পরিবর্তনের প্রতীক। যে সময়ে সিনেমা হল ছিল সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় বিনোদনকেন্দ্র ও সামাজিক মিলনস্থল, সেই সময়ের স্মৃতি এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

এক সময়ের ব্যস্ত হল

মমতা সিনেমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। তখন জেলা শহর ও মফস্বলে সিনেমা হল ছিল মানুষের উৎসবের জায়গা। নতুন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকের ভিড়, পোস্টার, মাইকিং, টিকিটের লাইন—সব মিলিয়ে সিনেমা ছিল এক সামাজিক অভিজ্ঞতা। নরসিংদীর মতো জেলায় একসময় ২০টির বেশি সিনেমা হল ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে এখন হাতে গোনা কয়েকটি হল টিকে থাকা বাংলাদেশের একক পর্দার সিনেমা সংস্কৃতির সংকটকে স্পষ্ট করে।

দর্শক বদলেছে, অভ্যাস বদলেছে

সিনেমা হলের সংকটের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে। দর্শক এখন মোবাইল, টেলিভিশন, ওটিটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদনের সহজ সুযোগ পাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাস অনেক জায়গায় কমে গেছে। আবার পুরোনো হলগুলোর অবকাঠামো, শব্দব্যবস্থা, আসন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

ঈদনির্ভর বাজারের চাপ

বাংলাদেশি সিনেমার বাজার অনেকাংশে ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। বছরে কয়েকটি বড় ছবির বাইরে নিয়মিত দর্শক ধরে রাখা কঠিন। ফলে পুরোনো হল মালিকদের জন্য ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মমতা সিনেমার বিক্রির ঘটনা তাই শুধু একটি হলের আর্থিক সংকট নয়, বরং পুরো প্রদর্শনী ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক স্মৃতি

সিনেমা হল একসময় প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার, পাড়ার আড্ডা, উৎসব—সব কিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিল। একটি হল বন্ধ হলে শুধু পর্দা নিভে যায় না, একটি এলাকার সাংস্কৃতিক স্মৃতিও হারিয়ে যায়। মমতা সিনেমার সম্ভাব্য বিদায় সেই অর্থে নরসিংদীর সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি শূন্যতা তৈরি করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম

পাঁচ দশকের স্মৃতি শেষে বিক্রির পথে মমতা সিনেমা

০৮:৫৪:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নরসিংদীর মাধবদীর পুরোনো সিনেমা হল মমতা সিনেমা বিক্রির পথে। প্রায় ৪৭ বছরের যাত্রা শেষে হলটির সামনে বিক্রির ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একটি সিনেমা হল বিক্রি হয়ে যাওয়া শুধু একটি ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের জেলা শহরের সিনেমা সংস্কৃতির দীর্ঘ পরিবর্তনের প্রতীক। যে সময়ে সিনেমা হল ছিল সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় বিনোদনকেন্দ্র ও সামাজিক মিলনস্থল, সেই সময়ের স্মৃতি এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

এক সময়ের ব্যস্ত হল

মমতা সিনেমা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। তখন জেলা শহর ও মফস্বলে সিনেমা হল ছিল মানুষের উৎসবের জায়গা। নতুন ছবি মুক্তি পেলে দর্শকের ভিড়, পোস্টার, মাইকিং, টিকিটের লাইন—সব মিলিয়ে সিনেমা ছিল এক সামাজিক অভিজ্ঞতা। নরসিংদীর মতো জেলায় একসময় ২০টির বেশি সিনেমা হল ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই জায়গা থেকে এখন হাতে গোনা কয়েকটি হল টিকে থাকা বাংলাদেশের একক পর্দার সিনেমা সংস্কৃতির সংকটকে স্পষ্ট করে।

দর্শক বদলেছে, অভ্যাস বদলেছে

সিনেমা হলের সংকটের পেছনে কয়েকটি বড় কারণ আছে। দর্শক এখন মোবাইল, টেলিভিশন, ওটিটি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদনের সহজ সুযোগ পাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার অভ্যাস অনেক জায়গায় কমে গেছে। আবার পুরোনো হলগুলোর অবকাঠামো, শব্দব্যবস্থা, আসন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক দর্শকের প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি।

ঈদনির্ভর বাজারের চাপ

বাংলাদেশি সিনেমার বাজার অনেকাংশে ঈদকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। বছরে কয়েকটি বড় ছবির বাইরে নিয়মিত দর্শক ধরে রাখা কঠিন। ফলে পুরোনো হল মালিকদের জন্য ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। মমতা সিনেমার বিক্রির ঘটনা তাই শুধু একটি হলের আর্থিক সংকট নয়, বরং পুরো প্রদর্শনী ব্যবস্থার দুর্বলতার কথাও মনে করিয়ে দেয়।

হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক স্মৃতি

সিনেমা হল একসময় প্রেম, বন্ধুত্ব, পরিবার, পাড়ার আড্ডা, উৎসব—সব কিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিল। একটি হল বন্ধ হলে শুধু পর্দা নিভে যায় না, একটি এলাকার সাংস্কৃতিক স্মৃতিও হারিয়ে যায়। মমতা সিনেমার সম্ভাব্য বিদায় সেই অর্থে নরসিংদীর সাংস্কৃতিক মানচিত্রে একটি শূন্যতা তৈরি করবে।