০৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম ফিলিপাইনের স্কুলে বন্দুক হামলা: নিহত ৩ শিক্ষার্থী, বুলিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই কিশোর ভারতের মূল শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি ২১ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, মে মাসে নেমে এলো ০.৫ শতাংশে দূরবর্তী কাজের সুযোগে বদলাচ্ছে পরিবার-জীবনের সমীকরণ, স্বস্তিতে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা সাভারে হত্যা মামলার আসামি পালানোয় তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত জামায়াত আমিরের ‘নতুন বিপ্লব’ হুঁশিয়ারি, সংসদে কথা বলার সুযোগ না পেলে থাকার প্রশ্ন নেই ডগলাস লিমের নতুন মাইলফলক, উৎসব যাত্রা শুরু ‘হার সেকেন্ড অ্যাক্ট’-এর ‘আইটেম গান’ নয়, নারীশরীরের দৃষ্টি: তামান্নার মন্তব্যে নতুন বিতর্ক স্টার সিনেপ্লেক্সে সপ্তাহজুড়ে বাংলা ছবির গ্রীষ্ম উৎসব

আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে চলমান আলোচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক সংস্কারের জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনে যুক্ত হওয়া বিতর্কিত ১৮(এ) ধারা নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ঋণ সুবিধা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে এই ধারাটি বাতিলের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সরকার গত ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে একটি নতুন ঋণ প্যাকেজের আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আলোচনায় আইএমএফ ব্যাংকিং খাতের শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক শর্ত উত্থাপন করেছে।

বিতর্কিত ১৮(এ) ধারা নিয়ে আপত্তি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের প্রধান আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(এ) ধারা। এই বিধান অনুযায়ী জোরপূর্বক একীভূত বা পুনর্গঠিত কোনো ব্যাংকের মালিকানা পরবর্তীতে আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আইএমএফের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যাংক খাতের জবাবদিহি দুর্বল করে এবং সুশাসনের কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংস্থাটি এটিকে একটি আইনি ফাঁক হিসেবে দেখছে, যা আর্থিক খাতে সংস্কারের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগতভাবে ১৮(এ) ধারা সম্পূর্ণভাবে আইন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংক খাতে আরও সংস্কারের চাপ

শুধু এই ধারাই নয়, ব্যাংকিং খাতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্যও চাপ দিচ্ছে আইএমএফ। এর মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ কার্যকর করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ করা।

আইএমএফ মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

রাজস্ব খাতেও কঠোর শর্ত

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি সব খাতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রয়োগ এবং ব্যাপকভাবে টার্নওভার কর চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একক ভ্যাট কাঠামোর ধারণার সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে একমত হলেও হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

অন্যদিকে টার্নওভার কর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে আগ্রহী নয় সরকার। তাদের যুক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও এই কর দিতে হয়, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জুলাইয়ে আইএমএফ মিশন, ডিসেম্বরে চুক্তির সম্ভাবনা

আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে।

এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান আইএমএফ কোটার আওতায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন এসডিআর, অর্থাৎ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা রাখে।

আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে ব্যাংক সংস্কার শর্ত, ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের নতুন ঋণ আলোচনায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(এ) ধারা বাতিল, খেলাপি ঋণ কমানো ও ভ্যাট সংস্কারের শর্ত দিয়েছে আইএমএফ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রাগন নয়, এবার তাক সাজানোর খেলায় মজেছে গেমাররা: কেন জনপ্রিয় হচ্ছে চাকরি-ভিত্তিক ভিডিও গেম

আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে শর্ত: ব্যাংক কোম্পানি আইন থেকে ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত

০৯:০৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য নতুন ঋণ প্যাকেজ নিয়ে চলমান আলোচনায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক সংস্কারের জন্য সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনে যুক্ত হওয়া বিতর্কিত ১৮(এ) ধারা নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ঋণ সুবিধা পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে এই ধারাটি বাতিলের বিষয়টি সামনে এসেছে।

সরকার গত ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফের কাছে একটি নতুন ঋণ প্যাকেজের আবেদন করে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হওয়া আলোচনায় আইএমএফ ব্যাংকিং খাতের শাসনব্যবস্থা, জবাবদিহি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক শর্ত উত্থাপন করেছে।

বিতর্কিত ১৮(এ) ধারা নিয়ে আপত্তি

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের প্রধান আপত্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(এ) ধারা। এই বিধান অনুযায়ী জোরপূর্বক একীভূত বা পুনর্গঠিত কোনো ব্যাংকের মালিকানা পরবর্তীতে আগের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আইএমএফের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা ব্যাংক খাতের জবাবদিহি দুর্বল করে এবং সুশাসনের কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংস্থাটি এটিকে একটি আইনি ফাঁক হিসেবে দেখছে, যা আর্থিক খাতে সংস্কারের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগতভাবে ১৮(এ) ধারা সম্পূর্ণভাবে আইন থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

ব্যাংক খাতে আরও সংস্কারের চাপ

শুধু এই ধারাই নয়, ব্যাংকিং খাতে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্যও চাপ দিচ্ছে আইএমএফ। এর মধ্যে রয়েছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর একীভূতকরণ কার্যকর করা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংক পরিচালনায় রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি বন্ধ করা।

আইএমএফ মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ অপরিহার্য।

রাজস্ব খাতেও কঠোর শর্ত

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায়ও বেশ কিছু কঠোর শর্ত দিয়েছে আইএমএফ। সংস্থাটি সব খাতে অভিন্ন ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রয়োগ এবং ব্যাপকভাবে টার্নওভার কর চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একক ভ্যাট কাঠামোর ধারণার সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে একমত হলেও হার ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

অন্যদিকে টার্নওভার কর তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করতে আগ্রহী নয় সরকার। তাদের যুক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকলেও এই কর দিতে হয়, যা অনেক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

জুলাইয়ে আইএমএফ মিশন, ডিসেম্বরে চুক্তির সম্ভাবনা

আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রস্তুতি ও সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে।

এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য আইএমএফ-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান আইএমএফ কোটার আওতায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন এসডিআর, অর্থাৎ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পাওয়ার সক্ষমতা রাখে।

আইএমএফের নতুন ঋণ প্যাকেজে ব্যাংক সংস্কার শর্ত, ১৮(এ) ধারা বাদ দিতে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের নতুন ঋণ আলোচনায় ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(এ) ধারা বাতিল, খেলাপি ঋণ কমানো ও ভ্যাট সংস্কারের শর্ত দিয়েছে আইএমএফ।