ভারতের জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির আত্মত্যাগ দিবস উপলক্ষে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি বলেছেন, দেশের শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলতে ড. মুখার্জির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর আদর্শ আজও দেশপ্রেম ও জনসেবার পথে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান
এক বার্তায় রেখা গুপ্তা বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বিশ্বাস করতেন যে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে কিছুই হতে পারে না। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও আদর্শ রাজনৈতিক কর্মী থেকে সাধারণ মানুষ—সবার জন্যই অনুকরণীয়।
তিনি আরও বলেন, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি পতাকা ও দুটি প্রধানমন্ত্রীর ধারণার বিরুদ্ধে ড. মুখার্জির দৃঢ় অবস্থান জাতীয় ঐক্যের প্রশ্নে তাঁর অটল বিশ্বাসের প্রতিফলন। দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার যে শিক্ষা তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

শিক্ষা ও শিল্প উন্নয়নে অবদান
রেখা গুপ্তার মতে, স্বাধীন ভারতের শিক্ষা ও শিল্প খাতের বিকাশে ড. মুখার্জির অবদান দীর্ঘদিন ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি এমন একটি ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রেখেছিলেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে দেশের উন্নয়নের পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
কাশ্মীর ইস্যুতে আন্দোলন ও মৃত্যু
ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় অনুমতি ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশ করায় তাঁকে আটক করা হয়েছিল। পরে আটক অবস্থায় তাঁর মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তাঁর মৃত্যুর পর তৎকালীন অনুমতি ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এরপর থেকে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শকে স্মরণ করে প্রতি বছর ২৩ জুন আত্মত্যাগ দিবস পালন করা হয়ে থাকে।
ড. মুখার্জিকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবেই নয়, বরং জাতীয় ঐক্য, শিক্ষা বিস্তার এবং শিল্প উন্নয়নের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবেও স্মরণ করা হয়। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে জনকল্যাণের পথে এগিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন রেখা গুপ্তা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















