০৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
নেপথ্যের ‘গুরু’, গোপন বার্তা ও তুলসি গ্যাবার্ডের রাজনৈতিক উত্থান ঘিরে ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক অনুসন্ধান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফুটবল নায়ক অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের উত্থান দিনাজপুর সীমান্তে ‘বাংলাদেশে পুশইন’ অভিযোগ, একই পরিবারের চার সদস্য আটক ঢাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, যুবক আটক হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে হামে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮৯ নিয়োগের চার মাস পর পদত্যাগ, জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তাদের ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বললেন ব্যারিস্টার বাদল ইরান যুদ্ধের পর বিশ্ব রাজনীতি: শক্তির দম্ভ থেকে কূটনীতির সম্ভাবনার দিকে? বাংলাদেশের ভারসাম্যের কূটনীতি: দিল্লি না বেইজিং? শহরের রেলপথে ইতিহাসের চলমান পাঠশালা মস্তিষ্কের ব্যায়াম ছেড়ে দেবেন না: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি আমাদের চিন্তার ক্ষমতা কেড়ে নিচ্ছে?

ন্যাশনাল থিয়েটারে স্যান্ড্রা ওহর অভিষেক ব্যর্থ? ‘দ্য মিজানথ্রোপ’ নিয়ে তীব্র হতাশা সমালোচকের

জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘কিলিং ইভ’-এর তারকা স্যান্ড্রা ওহকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল থিয়েটারে তাঁর প্রথম মঞ্চাভিনয় ঘিরে নাট্যপ্রেমীদের আগ্রহও ছিল ব্যাপক। কিন্তু মলিয়েরের বিখ্যাত কমেডি ‘দ্য মিজানথ্রোপ’-এর আধুনিক রূপান্তর নিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচক ক্লাইভ ডেভিস।

মার্টিন ক্রিম্পের নতুন সংস্করণে নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সমালোচকের মতে, পুরো প্রযোজনাই এমনভাবে জটিল ও অগোছালো হয়ে উঠেছে যে তা রক্ষা করা কোনো অভিনেতার পক্ষেই কঠিন ছিল।

মলিয়েরের ক্লাসিকের আধুনিক রূপ

‘দ্য মিজানথ্রোপ’ মূলত এমন এক চরিত্রের গল্প, যে সমাজের ভণ্ডামি ও কৃত্রিমতার সঙ্গে আপস করতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্রিম্প এই নাটকটি প্রথম রূপান্তর করেছিলেন তিন দশক আগে। এবার তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে মূল চরিত্র আলসেস্টকে রূপান্তর করেছেন অ্যালিস নামে একজন সফল ঔপন্যাসিকে।

Sandra Oh in The Misanthrope | West End Theatre

অ্যালিস তার স্পষ্টভাষী মতামতের জন্য সাহিত্য ও গণমাধ্যম জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। একটি সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সে বুঝতে পারে, বার্লিনে পাওয়ার কথা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্যান্ড্রা ওহর অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন

সমালোচকের মতে, স্যান্ড্রা ওহ চরিত্রটির তীক্ষ্ণতা তুলে ধরতে পারলেও অভিনয়ে প্রয়োজনীয় সূক্ষ্মতা অনুপস্থিত ছিল। তাঁর অভিব্যক্তিতে ক্ষোভ ও অবজ্ঞার উপস্থিতি থাকলেও চরিত্রের গভীরতা যথেষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি।

এছাড়া অ্যালিসের নানা বক্তব্যও খুব পরিচিত ও প্রত্যাশিত মনে হয়েছে। পিতৃতন্ত্র, নারীবিদ্বেষ কিংবা নারীনিধনের মতো বিষয় নিয়ে তার বক্তব্য নাটকীয় সংঘাত তৈরির বদলে অনেক ক্ষেত্রেই পূর্বপরিচিত রাজনৈতিক অবস্থানের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে।

সহ-অভিনেতাদের মধ্যে উজ্জ্বল পল চাহিদি

নাটকের অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন পল চাহিদি। তিনি অ্যালিসের সমকামী বন্ধু জন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সবার সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত।

টম মিসন অভিনয় করেছেন অ্যালিসের তুলনামূলক কমবয়সি প্রেমিক স্টেফানের চরিত্রে। আত্মমগ্ন ও অগভীর স্বভাবের এই অভিনেতা চরিত্রে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

The Misanthrope review – Sandra Oh stars in reworked classic that simpers  in its satire and woos in its drama | Theatre | The Guardian

প্রযোজনার গতি ও কাহিনির দুর্বলতা

ন্যাশনাল থিয়েটারের নতুন প্রধান ইন্ধু রুবাসিংহাম নাটকটি পরিচালনা করেছেন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। কিন্তু সেই গতি নাটকের দুর্বলতা ঢাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

নাটকে ফরাসি লেখক মিশেল উয়েলবেকের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে একটি অপ্রত্যাশিত কাহিনি মোড়ও যোগ করা হয়েছে। সেখানে এসমে নামের এক তরুণ লেখক তার লেখা অ্যালিসকে দেখানোর পর ঘটনাপ্রবাহ নতুন দিকে মোড় নেয়। তবে সমালোচকের মতে, এই অংশটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

নাটকের শেষভাগে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মুখোশধারী পার্টির দৃশ্য থাকলেও ততক্ষণে দর্শকের আবেগগত বিনিয়োগ অনেকটাই কমে যায়। তবে পোশাক পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়েছে, যা প্রযোজনার অন্যতম শক্তিশালী দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সমালোচকের রায়

১০৫ মিনিটের এই প্রযোজনাকে পাঁচের মধ্যে মাত্র দুই তারকা দিয়েছেন সমালোচক। তাঁর মতে, স্যান্ড্রা ওহর মঞ্চ অভিষেক প্রত্যাশা অনুযায়ী উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি, আর নাটকের দুর্বল কাঠামো সেই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ন্যাশনাল থিয়েটারের লিটলটন মঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনী চলবে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপথ্যের ‘গুরু’, গোপন বার্তা ও তুলসি গ্যাবার্ডের রাজনৈতিক উত্থান ঘিরে ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক অনুসন্ধান

ন্যাশনাল থিয়েটারে স্যান্ড্রা ওহর অভিষেক ব্যর্থ? ‘দ্য মিজানথ্রোপ’ নিয়ে তীব্র হতাশা সমালোচকের

০২:০৫:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘কিলিং ইভ’-এর তারকা স্যান্ড্রা ওহকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। ব্রিটেনের ন্যাশনাল থিয়েটারে তাঁর প্রথম মঞ্চাভিনয় ঘিরে নাট্যপ্রেমীদের আগ্রহও ছিল ব্যাপক। কিন্তু মলিয়েরের বিখ্যাত কমেডি ‘দ্য মিজানথ্রোপ’-এর আধুনিক রূপান্তর নিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মনে করছেন সমালোচক ক্লাইভ ডেভিস।

মার্টিন ক্রিম্পের নতুন সংস্করণে নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রকে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে সমালোচকের মতে, পুরো প্রযোজনাই এমনভাবে জটিল ও অগোছালো হয়ে উঠেছে যে তা রক্ষা করা কোনো অভিনেতার পক্ষেই কঠিন ছিল।

মলিয়েরের ক্লাসিকের আধুনিক রূপ

‘দ্য মিজানথ্রোপ’ মূলত এমন এক চরিত্রের গল্প, যে সমাজের ভণ্ডামি ও কৃত্রিমতার সঙ্গে আপস করতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্রিম্প এই নাটকটি প্রথম রূপান্তর করেছিলেন তিন দশক আগে। এবার তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে মূল চরিত্র আলসেস্টকে রূপান্তর করেছেন অ্যালিস নামে একজন সফল ঔপন্যাসিকে।

Sandra Oh in The Misanthrope | West End Theatre

অ্যালিস তার স্পষ্টভাষী মতামতের জন্য সাহিত্য ও গণমাধ্যম জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। একটি সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সে বুঝতে পারে, বার্লিনে পাওয়ার কথা থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

স্যান্ড্রা ওহর অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন

সমালোচকের মতে, স্যান্ড্রা ওহ চরিত্রটির তীক্ষ্ণতা তুলে ধরতে পারলেও অভিনয়ে প্রয়োজনীয় সূক্ষ্মতা অনুপস্থিত ছিল। তাঁর অভিব্যক্তিতে ক্ষোভ ও অবজ্ঞার উপস্থিতি থাকলেও চরিত্রের গভীরতা যথেষ্টভাবে ফুটে ওঠেনি।

এছাড়া অ্যালিসের নানা বক্তব্যও খুব পরিচিত ও প্রত্যাশিত মনে হয়েছে। পিতৃতন্ত্র, নারীবিদ্বেষ কিংবা নারীনিধনের মতো বিষয় নিয়ে তার বক্তব্য নাটকীয় সংঘাত তৈরির বদলে অনেক ক্ষেত্রেই পূর্বপরিচিত রাজনৈতিক অবস্থানের পুনরাবৃত্তি বলে মনে হয়েছে।

সহ-অভিনেতাদের মধ্যে উজ্জ্বল পল চাহিদি

নাটকের অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন পল চাহিদি। তিনি অ্যালিসের সমকামী বন্ধু জন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী সবার সঙ্গে মানিয়ে চলতে অভ্যস্ত।

টম মিসন অভিনয় করেছেন অ্যালিসের তুলনামূলক কমবয়সি প্রেমিক স্টেফানের চরিত্রে। আত্মমগ্ন ও অগভীর স্বভাবের এই অভিনেতা চরিত্রে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

The Misanthrope review – Sandra Oh stars in reworked classic that simpers  in its satire and woos in its drama | Theatre | The Guardian

প্রযোজনার গতি ও কাহিনির দুর্বলতা

ন্যাশনাল থিয়েটারের নতুন প্রধান ইন্ধু রুবাসিংহাম নাটকটি পরিচালনা করেছেন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। কিন্তু সেই গতি নাটকের দুর্বলতা ঢাকতে পারেনি বলে মন্তব্য করা হয়েছে।

নাটকে ফরাসি লেখক মিশেল উয়েলবেকের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঘিরে একটি অপ্রত্যাশিত কাহিনি মোড়ও যোগ করা হয়েছে। সেখানে এসমে নামের এক তরুণ লেখক তার লেখা অ্যালিসকে দেখানোর পর ঘটনাপ্রবাহ নতুন দিকে মোড় নেয়। তবে সমালোচকের মতে, এই অংশটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে এবং দর্শকের আগ্রহ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

নাটকের শেষভাগে একটি জাঁকজমকপূর্ণ মুখোশধারী পার্টির দৃশ্য থাকলেও ততক্ষণে দর্শকের আবেগগত বিনিয়োগ অনেকটাই কমে যায়। তবে পোশাক পরিকল্পনার প্রশংসা করা হয়েছে, যা প্রযোজনার অন্যতম শক্তিশালী দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সমালোচকের রায়

১০৫ মিনিটের এই প্রযোজনাকে পাঁচের মধ্যে মাত্র দুই তারকা দিয়েছেন সমালোচক। তাঁর মতে, স্যান্ড্রা ওহর মঞ্চ অভিষেক প্রত্যাশা অনুযায়ী উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি, আর নাটকের দুর্বল কাঠামো সেই হতাশাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ন্যাশনাল থিয়েটারের লিটলটন মঞ্চে নাটকটির প্রদর্শনী চলবে আগামী ১ আগস্ট পর্যন্ত।