১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

ইসলামাবাদ সমঝোতায় নেই ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু, স্পষ্ট বার্তা পাকিস্তান ও ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার মধ্যে ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বৈঠকের পর দুই নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কোনো অংশ নয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেহবাজ শরিফ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু কখনও আলোচনার টেবিলে ছিল না।

ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ নয়

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কিছু দেশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখবে, অথচ ইরানের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা হবে—এ ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমঝোতা স্মারকে ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই এবং এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত হবে না।

Pakistan to play India in T20 World Cup: PM Shehbaz Sharif | The Daily Star

তিনি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভবিষ্যতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। স্থায়ী ও সম্মানজনক শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকা

শেহবাজ শরিফ ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর ভয়াবহ প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই যুদ্ধ নয়, সংলাপ ও সহযোগিতার পথই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের অবস্থানও স্পষ্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো সমঝোতার অংশ নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ইরান কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা বা দরকষাকষি করবে না।

ইরান-পাকিস্তান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তরিক সংলাপ এবং অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা।

পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে

পেজেশকিয়ান বলেন, পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী দেশের নয়, বরং গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দুই দেশের জনগণ একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি পাকিস্তান সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ওপর ইরানের আস্থারই প্রতিফলন।

দিনব্যাপী সফর শেষে মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। সফরকালে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও ইরানের এই যৌথ অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

ইসলামাবাদ সমঝোতায় নেই ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু, স্পষ্ট বার্তা পাকিস্তান ও ইরানের

১২:০৫:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের অবসান এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার মধ্যে ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বৈঠকের পর দুই নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের কোনো অংশ নয়।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শেহবাজ শরিফ বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু কখনও আলোচনার টেবিলে ছিল না।

ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ নয়

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কিছু দেশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাখবে, অথচ ইরানের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা হবে—এ ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সমঝোতা স্মারকে ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই এবং এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত হবে না।

Pakistan to play India in T20 World Cup: PM Shehbaz Sharif | The Daily Star

তিনি আরও জানান, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ভবিষ্যতেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। স্থায়ী ও সম্মানজনক শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।

শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ভূমিকা

শেহবাজ শরিফ ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণের দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি আনার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এর ভয়াবহ প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই যুদ্ধ নয়, সংলাপ ও সহযোগিতার পথই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের অবস্থানও স্পষ্ট

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও একই সুরে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কোনো সমঝোতার অংশ নয় এবং ভবিষ্যতেও হবে না। তিনি জানান, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে ইরান কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা বা দরকষাকষি করবে না।

ইরান-পাকিস্তান সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

তার মতে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো আন্তরিক সংলাপ এবং অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা।

পাকিস্তান-ইরান সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে

পেজেশকিয়ান বলেন, পাকিস্তান ও ইরানের সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী দেশের নয়, বরং গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বন্ধনে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক। দুই দেশের জনগণ একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের অংশীদার বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি পাকিস্তান সরকারের শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সাম্প্রতিক সমঝোতা পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ওপর ইরানের আস্থারই প্রতিফলন।

দিনব্যাপী সফর শেষে মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ ত্যাগ করেন। সফরকালে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমিয়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও ইরানের এই যৌথ অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।