১১:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
এড মিলিব্যান্ডকে ঘিরে জল্পনা, অ্যান্ডি বার্নহামের অর্থনৈতিক দলে বাড়ছে প্রভাব বিএনপি নেতার ‘ড্রেজার সন্ত্রাস’ বন্ধের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, নদীভাঙনের আতঙ্কে এলাকাবাসী শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৮ ডিবি সদস্য, তিনজনের অবস্থা গুরুতর ভেনেজুয়েলায় পরপর দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও জরুরি অবস্থা ঘোষণা চীনা বিনিয়োগ টানতে নতুন উদ্যোগ: বাংলাদেশে মূল্যশৃঙ্খল সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার কাছাকাছি একের পর এক ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল, কী বার্তা দিচ্ছে? জাপানের উত্তরে শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির আশঙ্কা নেই; সতর্ক থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী মাজারে দানের টাকা আসলে কোথায় যায়? বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ঐতিহাসিক স্বপ্ন জিইয়ে রাখল ৩-১ জয়, বিদায় নিশ্চিত কাতারের ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে গ্রুপসেরা ব্রাজিল

প্রধানমন্ত্রী বদলালেই কি বদলায় রাষ্ট্র? ব্রিটেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার গভীর সংকট

ব্রিটেন আবারও এক নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত এক দশকে দেশটি ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব দেখেছে। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নাম। একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এত দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন নিছক রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা ও রাজনৈতিক কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দেয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় জয়ের পর অনেক ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস করেছিলেন যে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিভাজন, কনজারভেটিভ সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং বারবার নীতিগত পরিবর্তনের পর স্টারমার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা দ্রুতই দেখিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর রাষ্ট্রীয় সমস্যার সমাধান এক জিনিস নয়।

ব্রিটেনের মূল সংকট কোনো একক নেতার ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশটি এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে গেছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারগুলো ক্রমাগত জনমত, গণমাধ্যমের চাপ এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকায় জাতীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক কৌশল গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার সময়সীমা বনাম রাজনৈতিক সময়সীমা

একটি দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বা জ্বালানি নিরাপত্তা রাতারাতি গড়ে ওঠে না। এগুলোর জন্য বহু বছর ধরে একই লক্ষ্য ও নীতির ধারাবাহিক অনুসরণ প্রয়োজন। কিন্তু ব্রিটেনে প্রায় প্রতিটি নতুন প্রশাসন আগের সরকারের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করে। ফলে নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতার বদলে দেখা যায় বিচ্ছিন্নতা।

এর প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি দুর্বল, বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো প্রায়ই বিলম্বিত হয়, শিল্পনীতি ঘন ঘন পরিবর্তিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অবস্থান বদলাতে দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরির বদলে রাজনৈতিক শক্তির বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে বর্তমান সংকট সামলাতে।

ব্রেক্সিট: গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘ ছায়া

ব্রেক্সিট এই বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২০১৬ সালের গণভোটকে অনেকেই গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন। জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পথ বেছে নেয়। কিন্তু এক দশক পর পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

বর্তমান জরিপগুলো দেখাচ্ছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন ব্রেক্সিট প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারেনি। অর্থাৎ একটি গণতান্ত্রিকভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল নিয়েই এখন ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের ব্যর্থতা নয়; বরং দেখায় যে জনগণের অনুমোদন পাওয়া কোনো সিদ্ধান্তও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করে না।

প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব যথেষ্ট নয়

অনেকের কাছে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা গণতন্ত্রের শক্তির প্রমাণ। কারণ সরকার পরিবর্তন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন, কিন্তু সাংবিধানিক কাঠামো অটুট রয়েছে। নির্বাচন হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে গেছে।

তবে টিকে থাকার ক্ষমতা আর কার্যকর হওয়ার ক্ষমতা এক বিষয় নয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বারবার সংকট মোকাবিলা করতে পারলেও তা যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সফলভাবে রক্ষা করতে পারছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নেতৃত্ব অপসারণের সক্ষমতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিক সক্ষমতাও সমান জরুরি।

আজকের ব্রিটেনে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। দেশটি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনে অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম সফল। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধাক্কা সামলে টিকে থাকছে, কিন্তু সেই স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বা জনআস্থার বিকল্প হতে পারছে না।

বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় প্রশ্ন

ব্রিটেনের এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্রিটেনের বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র বিশ্বে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে শুধু নির্বাচনের কারণে নয়, বরং সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর শাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতার জন্য।

কিন্তু বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আদর্শিক দৃষ্টিকোণের বদলে ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করছে। তারা জানতে চায় কোন ব্যবস্থা দ্রুত অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, কোন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং কোন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম।

এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বহন করে। গণতান্ত্রিক বৈধতা এবং কার্যকর শাসনক্ষমতা সবসময় একই জিনিস নয়। জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা জরুরি, কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা নয়; বরং রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি কি ধারাবাহিক নীতি, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং জাতীয় পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে? কারণ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা কেবল গণতন্ত্র বনাম অগণতন্ত্রের নয়। প্রকৃত প্রতিযোগিতা হবে সেই সব রাষ্ট্রের মধ্যে, যারা দীর্ঘমেয়াদে ফল দিতে পারে এবং যারা পারে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

এড মিলিব্যান্ডকে ঘিরে জল্পনা, অ্যান্ডি বার্নহামের অর্থনৈতিক দলে বাড়ছে প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী বদলালেই কি বদলায় রাষ্ট্র? ব্রিটেনের রাজনৈতিক অস্থিরতার গভীর সংকট

০৮:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ব্রিটেন আবারও এক নতুন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত এক দশকে দেশটি ডেভিড ক্যামেরন, থেরেসা মে, বরিস জনসন, লিজ ট্রাস, ঋষি সুনাক এবং কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব দেখেছে। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও একটি নাম। একটি প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এত দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন নিছক রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা ও রাজনৈতিক কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দেয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় জয়ের পর অনেক ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাস করেছিলেন যে দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিভাজন, কনজারভেটিভ সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট, অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং বারবার নীতিগত পরিবর্তনের পর স্টারমার স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা দ্রুতই দেখিয়ে দিয়েছে যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর রাষ্ট্রীয় সমস্যার সমাধান এক জিনিস নয়।

ব্রিটেনের মূল সংকট কোনো একক নেতার ব্যর্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং দেশটি এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে গেছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারগুলো ক্রমাগত জনমত, গণমাধ্যমের চাপ এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত থাকায় জাতীয় উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক কৌশল গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার সময়সীমা বনাম রাজনৈতিক সময়সীমা

একটি দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বা জ্বালানি নিরাপত্তা রাতারাতি গড়ে ওঠে না। এগুলোর জন্য বহু বছর ধরে একই লক্ষ্য ও নীতির ধারাবাহিক অনুসরণ প্রয়োজন। কিন্তু ব্রিটেনে প্রায় প্রতিটি নতুন প্রশাসন আগের সরকারের অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করে। ফলে নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতার বদলে দেখা যায় বিচ্ছিন্নতা।

এর প্রভাব অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান। উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি দুর্বল, বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলো প্রায়ই বিলম্বিত হয়, শিল্পনীতি ঘন ঘন পরিবর্তিত হয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অবস্থান বদলাতে দেখা যায়। দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তৈরির বদলে রাজনৈতিক শক্তির বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে বর্তমান সংকট সামলাতে।

ব্রেক্সিট: গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘ ছায়া

ব্রেক্সিট এই বাস্তবতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২০১৬ সালের গণভোটকে অনেকেই গণতন্ত্রের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন। জনগণের সরাসরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পথ বেছে নেয়। কিন্তু এক দশক পর পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

বর্তমান জরিপগুলো দেখাচ্ছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন ব্রেক্সিট প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল দিতে পারেনি। অর্থাৎ একটি গণতান্ত্রিকভাবে গৃহীত সিদ্ধান্তের ফলাফল নিয়েই এখন ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের ব্যর্থতা নয়; বরং দেখায় যে জনগণের অনুমোদন পাওয়া কোনো সিদ্ধান্তও দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল নিশ্চিত করে না।

প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব যথেষ্ট নয়

অনেকের কাছে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা গণতন্ত্রের শক্তির প্রমাণ। কারণ সরকার পরিবর্তন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বদলেছেন, কিন্তু সাংবিধানিক কাঠামো অটুট রয়েছে। নির্বাচন হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করে গেছে।

তবে টিকে থাকার ক্ষমতা আর কার্যকর হওয়ার ক্ষমতা এক বিষয় নয়। কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা বারবার সংকট মোকাবিলা করতে পারলেও তা যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সফলভাবে রক্ষা করতে পারছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নেতৃত্ব অপসারণের সক্ষমতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিক সক্ষমতাও সমান জরুরি।

আজকের ব্রিটেনে একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। দেশটি প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনে অত্যন্ত দক্ষ, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পরিবর্তনে তুলনামূলকভাবে কম সফল। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধাক্কা সামলে টিকে থাকছে, কিন্তু সেই স্থিতিস্থাপকতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক গতিশীলতা বা জনআস্থার বিকল্প হতে পারছে না।

বিশ্ব রাজনীতির জন্য একটি বড় প্রশ্ন

ব্রিটেনের এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্রিটেনের বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র বিশ্বে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে শুধু নির্বাচনের কারণে নয়, বরং সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর শাসন নিশ্চিত করার সক্ষমতার জন্য।

কিন্তু বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশ রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে আদর্শিক দৃষ্টিকোণের বদলে ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করছে। তারা জানতে চায় কোন ব্যবস্থা দ্রুত অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, কোন ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে এবং কোন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম।

এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা বহন করে। গণতান্ত্রিক বৈধতা এবং কার্যকর শাসনক্ষমতা সবসময় একই জিনিস নয়। জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকা জরুরি, কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নের সক্ষমতা।

নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটেনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা নয়; বরং রাজনৈতিক ব্যবস্থাটি কি ধারাবাহিক নীতি, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং জাতীয় পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে? কারণ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা কেবল গণতন্ত্র বনাম অগণতন্ত্রের নয়। প্রকৃত প্রতিযোগিতা হবে সেই সব রাষ্ট্রের মধ্যে, যারা দীর্ঘমেয়াদে ফল দিতে পারে এবং যারা পারে না।