জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে বৃহস্পতিবার সকালে আঘাত হেনেছে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। তবে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ভূমিকম্পের ফলে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬.৯ বলে জানানো হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইওয়াতে প্রিফেকচারের পূর্ব উপকূলের কাছে সমুদ্রের নিচে, প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৬.৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সকালের ব্যস্ত সময়ে কম্পন
ভূমিকম্পটি আঘাত হানে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সকালের কর্মব্যস্ত সময়ের মধ্যে। রাজধানী টোকিওতেও হালকা কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক মিনিট ধরে কম্পন স্থায়ী হয়েছিল বলে বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া প্রতিবেদনে জানা গেছে।

সরকারের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই কোনো প্রাণহানি বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জরুরি প্রস্তুতিতে সরকার
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, সরকারের জরুরি প্রতিক্রিয়া দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ইওয়াতে অঞ্চলের কাছাকাছি হাশিকামি শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোমোকো নাগানে জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে জানান, ভূমিকম্প সতর্কবার্তা পাওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভব করেন। বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী নিরাপদ থাকলেও অনেক শিশু ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে। পরে সেদিনের সব ক্লাস বাতিল করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়।
রেল চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন

ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তা পরীক্ষা পরিচালনার জন্য পূর্ব জাপান রেলওয়ে কোম্পানি কয়েকটি বুলেট ট্রেন ও স্থানীয় রেলসেবার চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেবাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি পারমাণবিক স্থাপনা
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে দেশের কোনো পারমাণবিক স্থাপনায় অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা আওমোরির ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেও কোনো সমস্যা শনাক্ত হয়নি।
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে জাপান
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এ অঞ্চলে টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















