যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারেও। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতে দেশটির প্রধান দুই সূচক নিফটি ৫০ ও বিএসই সেনসেক্স উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি নিয়ে এগিয়েছে। তেলের দাম ইরান সংঘাত-পূর্ব পর্যায়ে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে এবং বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে নিফটি ৫০ সূচক ০.৬৪ শতাংশ বেড়ে ২৪,১৭৫.৬০ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স ০.৬৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭,৫১৮.৭২ পয়েন্টে।
তেলের দাম কমায় স্বস্তি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক শান্তি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭২.৫ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ ভারত। তাই তেলের দাম কমে যাওয়ায় দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি ব্যয় কমলে ভারতের বৈদেশিক খাত আরও শক্তিশালী হতে পারে।
টানা উত্থানে বাজার
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর গত নয়টি লেনদেন সেশনে নিফটি ও সেনসেক্স উভয় সূচকই প্রায় ৪ শতাংশ করে বেড়েছে। যদিও চলতি বছরে এখনো বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শেয়ারবাজারের তুলনায় ভারতীয় বাজারের পারফরম্যান্স কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক বিনোদ কার্কি ও ভাবেশ তালরেজা মনে করছেন, ভারতীয় শেয়ারের দীর্ঘদিনের তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্সের ধারা শেষ হওয়ার পথে। তাদের মতে, তেলের দাম কমে যাওয়া ভারতীয় শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
সুদের হার নিয়ে আশ্বাস
ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা নিকট ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ায় বাজারে আরও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কম ঋণ ব্যয় ব্যবসায়িক মুনাফা, ভোক্তা ব্যয় এবং শেয়ারের মূল্যায়ন বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন।
বেশিরভাগ খাতেই ঊর্ধ্বগতি
বাজারের ১৬টি প্রধান খাতের মধ্যে ১২টিতেই সূচক বেড়েছে। ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানির সূচক ০.১ শতাংশ এবং মাঝারি মূলধনী কোম্পানির সূচক ০.৩ শতাংশ বেড়েছে।
আর্থিক খাতের সূচক ০.৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংক, বেসরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সূচকও প্রায় ০.৬ শতাংশ করে বেড়েছে। বিদেশি মুদ্রা আমানতের বিপরীতে ঋণ প্রদানের অনুমতি দেওয়ার পর এ খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে অটো খাতের সূচক ২.১ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের দুই সেশনের পতনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কিছু শেয়ারে চাপ
সামগ্রিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে চাপ দেখা গেছে। লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এলআইসি) প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সুনীল আগরওয়ালের পদত্যাগ ঘোষণার পর কোম্পানিটির শেয়ার ২.৫ শতাংশ কমেছে।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত সম্ভাব্য অনিয়ম, নথিপত্রের ঘাটতি এবং অন্যান্য অসঙ্গতির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়ার পর রাজেশ এক্সপোর্টসের শেয়ার ৫ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















