চীনের মহাকাশ, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, নিউক্লিয়ার ফিউশন ও মস্তিষ্ক-যন্ত্র সংযোগ প্রযুক্তির মতো ‘ভবিষ্যৎ শিল্প’ খাতে বিনিয়োগের ঢল নেমেছে। সরকারের নীতিগত সমর্থন ও দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির আশায় দেশটির ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল অর্থ ঢালছে নতুন স্টার্টআপে। তবে এই উচ্ছ্বাসের মধ্যেই প্রযুক্তি খাতে নতুন একটি বিনিয়োগ-বুদ্বুদ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মহাকাশ থেকে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সর্বত্র বিনিয়োগের হিড়িক
সম্প্রতি সাংহাইভিত্তিক একটি নতুন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরে। মাত্র তিন মাস আগে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি সমুদ্র থেকে রকেট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
প্রথম ধাপে তারা শত শত মিলিয়ন ইউয়ান তহবিল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েক দফা অর্থায়নের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ইউয়ান সংগ্রহ করে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের কাছে বড় অঙ্কের সম্ভাব্য মুনাফার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে।
বিনিয়োগ বাজারে ফিরেছে প্রাণ
দীর্ঘ মন্দার পর চীনের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাত আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে দেশটিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি বিনিয়োগ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নতুন নিবন্ধিত ভেঞ্চার তহবিলের পরিমাণ গত বছরের মোট পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর জন্য অর্থ সংগ্রহের সুযোগ কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে অনুকূল অবস্থায় রয়েছে। এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো আয় শুরু না করলেও বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ পাচ্ছে।
সরকারি পরিকল্পনায় বাড়তি গতি
চীনের নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় ‘ভবিষ্যৎ শিল্প’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈব উৎপাদন, হাইড্রোজেন জ্বালানি, রোবটিকস, মহাকাশ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন খাত।
সম্প্রতি সরকার এমন স্টার্টআপগুলোর জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির নিয়মও সহজ করেছে, যাদের এখনো উল্লেখযোগ্য আয় বা মুনাফা নেই। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।
মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমানো
চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ গবেষণা এবং উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে চায়। এ লক্ষ্যেই সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। ফলে কৌশলগত এসব খাতে বিনিয়োগকে জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূল্যায়ন নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
যদিও বিনিয়োগের এই উল্লম্ফন অনেক উদ্যোক্তার জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে, তবুও বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন অস্বাভাবিক দ্রুত বাড়ছে।
এক বছর আগে যে প্রযুক্তি প্রকল্পের মূল্য ছিল কয়েকশ কোটি ইউয়ান, বর্তমানে তার মূল্য কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। একইভাবে মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট খাতের অনেক স্টার্টআপের মূল্যায়নও অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত উচ্চমূল্যের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে এসব বিনিয়োগ বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবুও আপাতত বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং চীনের প্রযুক্তি-নির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে নতুন নতুন স্টার্টআপে অর্থ ঢালার প্রবণতা আরও জোরালো হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















