পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড মামলার আপিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। আগামী ২৯ জুন মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
আদালতের নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সরদার মুহাম্মদ সরফরাজ দোগার এবং বিচারপতি মুহাম্মদ আসিফের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আপিল শুনবেন। আপিলে নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত আসা অর্থের নিষ্পত্তি এবং আল-কাদির ট্রাস্টের জন্য জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বিতর্কের কেন্দ্রে আইনগত নথি
মামলাটির পাশাপাশি ইমরান খান ও বুশরা বিবি আদালত অবমাননার আবেদনও দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাক্ষরিত ক্ষমতাপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব করা হয়েছে।

এর আগে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছিলেন, আদিয়ালা কারাগারে বন্দি আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাতে জটিলতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক বাধার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের পাল্টা দাবি
তবে নতুন এক জবাবে কারা কর্তৃপক্ষ ভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেছে। কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট আদালতে জানান, ক্ষমতাপত্র প্রস্তুত ও স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছিল ১৬ জুনই। একই দিনে প্রতিরক্ষা দলের আইনজীবীকে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
আদালতে জমা দেওয়া নথির সঙ্গে সেই বার্তার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, আইনজীবীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই পরবর্তী শুনানির আগে নথিগুলো সংগ্রহ করেননি।
আদালতের সতর্ক বার্তা

এই পরিস্থিতি আদালতের নজরেও আসে। কারণ প্রতিরক্ষা পক্ষ একাধিকবার সময় চেয়ে দাবি করে আসছিল যে তারা আসামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন না এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
এর আগের এক শুনানিতে আদালত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছিল, পরবর্তী তারিখে যদি যুক্তি উপস্থাপন না করা হয়, তাহলে বিদ্যমান নথিপত্রের ভিত্তিতেই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এখন ২৯ জুনের শুনানিকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ওই দিন আপিলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















