ভারতের জ্বালানি খাতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে আদানি গ্রুপ। দেশটির বেসরকারি খাতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীটি ঘোষণা করেছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা এগোচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আদানি ভারতের পারমাণবিক শক্তি খাতে অন্যতম বড় বেসরকারি অপারেটরে পরিণত হবে।
গ্রুপটির বার্ষিক সাধারণ সভায় চেয়ারম্যান গৌতম আদানি বলেন, ‘আদানি অ্যাটমিক এনার্জির মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি খাতে প্রবেশ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে আরেকটি আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপ।’
ভারতের পারমাণবিক শক্তি সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
পরিষ্কার ও নিম্ন-কার্বন জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যেই গত বছর দেশটি প্রথমবারের মতো দেশীয় ও বিদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত উন্মুক্ত করে।

বর্তমানে ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৮ গিগাওয়াট। সরকার ২০৪৭ সালের মধ্যে তা ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রাষ্ট্রায়ত্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআইএল) ৫০ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের পরিকল্পনা নিয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উৎপাদক প্রতিষ্ঠান এনটিপিসিও ৩০ গিগাওয়াট পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
বেসরকারি খাতে বাড়ছে প্রতিযোগিতা
আদানি গ্রুপের পরিকল্পনা সফল হলে তারা ভারতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম প্রধান অপারেটর হয়ে উঠবে। তবে এই খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে আরও কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। টাটা পাওয়ার ও রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজও সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে প্রকল্পগুলোর অবস্থান বা বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেটা সেন্টার ও গ্যাস ব্যবসায়ও সম্প্রসারণ
পারমাণবিক শক্তির পাশাপাশি ডেটা সেন্টার খাতেও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আদানি গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ গিগাওয়াট ডেটা সেন্টার সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোচ্ছে।

এ ছাড়া ভারতের ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতের গ্যাস সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প জ্বালানি ও অবকাঠামো বিনিয়োগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
বাজারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া
আদানি গ্রুপের নতুন পরিকল্পনার ঘোষণার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বুধবার গ্রুপটির প্রধান প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজেসের শেয়ারদর প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
ভারতের জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনায় পারমাণবিক শক্তির গুরুত্ব বাড়তে থাকায় আদানি গ্রুপের এই পদক্ষেপ আগামী বছরগুলোতে দেশটির বিদ্যুৎ খাতের প্রতিযোগিতা ও বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















