০১:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিহত অন্তত ৩২, আহত শত শত, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টম অকশন শেডে আগুন, ৪৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক জাপানের প্রবৃদ্ধি কৌশলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি বার্তা, সুদের হার নিয়ে নতুন বিতর্ক ডলারের দাপটে চাপে ইউরো-ইয়েন, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় ১৩ মাসের শিখরে মার্কিন মুদ্রা এআই উন্মাদনায় চাঙ্গা এশিয়ার শেয়ারবাজার, কমছে তেলের দাম ট্রাম্প প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা কাটছাঁটে বিপাকে লাখো পরিবার, সবচেয়ে বড় ধাক্কা অ্যারিজোনায় চীনের ‘ভবিষ্যৎ শিল্প’ দৌড়ে বিনিয়োগের জোয়ার, বাড়ছে প্রযুক্তি-বুদ্বুদের শঙ্কা আদানির পারমাণবিক শক্তিতে বড় বাজি, ২০৩৫ সালের মধ্যে ১০ গিগাওয়াট সক্ষমতার লক্ষ্য তেলের দাম কমায় চাঙ্গা রুপি, জুনে এশিয়ার সেরা মুদ্রাগুলোর কাতারে ভারত ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ: ফ্রান্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, রেকর্ড ভাঙার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাজ্য

বিএনপি নেতার ‘ড্রেজার সন্ত্রাস’ বন্ধের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, নদীভাঙনের আতঙ্কে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের নদীভাঙনপ্রবণ একটি এলাকার বাসিন্দারা অবৈধভাবে বসানো ড্রেজার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। তাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে আরিয়াল খাঁ নদে একটি ড্রেজার স্থাপন করা হয়েছে, যা নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করছে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর উপজেলার চরময়নাই ইউনিয়নের আমির-খা কান্দি গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন।

ড্রেজার স্থাপন নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক খান আরিয়াল খাঁ নদীর আমির খা এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য একটি ড্রেজার বসিয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নদী থেকে বালু তোলার চেষ্টা চলছে। এ কারণে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

চলছে নদীভাঙন, ড্রেজার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের শঙ্কা

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নূরুন্নাহার বেগম (৫২) জানান, নদীভাঙনের কারণে তিনি ইতোমধ্যে নিজের বাড়িঘর ও জমি হারিয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন পর নদী থেকে জেগে ওঠা জমিতে নতুন করে বসতি গড়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে আবারও ভাঙন শুরু হলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চরময়নাই ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পদ্মা ও আরিয়াল খাঁ নদ দ্বারা বেষ্টিত। প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মানুষের এই জনপদে বছরের পর বছর নদীভাঙন বড় সমস্যা হয়ে আছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জেগে ওঠা জমি নিয়ে নতুন আশার মুখে অনিশ্চয়তা

অনেক পরিবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপরীত তীরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে চলতি বছরও তারা নতুন করে ভাঙনের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে, গত দুই বছরে নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া কিছু জমি আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল।

কিন্তু বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীতে ড্রেজিং অব্যাহত থাকলে সেই জমিও আবার ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। তাই তারা দ্রুত ড্রেজার অপসারণ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

পদ্মার ভাঙনে ফরিদপুর অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার গৃহহীন

প্রশাসনের অবস্থান

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ড্রেজার স্থাপনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্বেচ্ছায় ড্রেজার অপসারণ না করা হলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

ফরিদপুরের আরিয়াল খাঁ নদে ড্রেজার স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের এই প্রতিবাদ নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিহত অন্তত ৩২, আহত শত শত, ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান

বিএনপি নেতার ‘ড্রেজার সন্ত্রাস’ বন্ধের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, নদীভাঙনের আতঙ্কে এলাকাবাসী

১১:০৯:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের নদীভাঙনপ্রবণ একটি এলাকার বাসিন্দারা অবৈধভাবে বসানো ড্রেজার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। তাদের অভিযোগ, বালু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে আরিয়াল খাঁ নদে একটি ড্রেজার স্থাপন করা হয়েছে, যা নতুন করে নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি করছে এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর উপজেলার চরময়নাই ইউনিয়নের আমির-খা কান্দি গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন।

ড্রেজার স্থাপন নিয়ে ক্ষোভ

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি সদরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক খান আরিয়াল খাঁ নদীর আমির খা এলাকায় বালু উত্তোলনের জন্য একটি ড্রেজার বসিয়েছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

প্রতিবাদকারীরা আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নদী থেকে বালু তোলার চেষ্টা চলছে। এ কারণে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

চলছে নদীভাঙন, ড্রেজার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের শঙ্কা

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নূরুন্নাহার বেগম (৫২) জানান, নদীভাঙনের কারণে তিনি ইতোমধ্যে নিজের বাড়িঘর ও জমি হারিয়েছেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন পর নদী থেকে জেগে ওঠা জমিতে নতুন করে বসতি গড়ার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণে আবারও ভাঙন শুরু হলে সেই স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চরময়নাই ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা পদ্মা ও আরিয়াল খাঁ নদ দ্বারা বেষ্টিত। প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ মানুষের এই জনপদে বছরের পর বছর নদীভাঙন বড় সমস্যা হয়ে আছে। ইতোমধ্যে প্রায় এক হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জেগে ওঠা জমি নিয়ে নতুন আশার মুখে অনিশ্চয়তা

অনেক পরিবার নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে বিপরীত তীরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। তবে চলতি বছরও তারা নতুন করে ভাঙনের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে, গত দুই বছরে নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া কিছু জমি আবার জেগে উঠতে শুরু করেছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল।

কিন্তু বাসিন্দাদের আশঙ্কা, নদীতে ড্রেজিং অব্যাহত থাকলে সেই জমিও আবার ভাঙনের কবলে পড়তে পারে। তাই তারা দ্রুত ড্রেজার অপসারণ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

পদ্মার ভাঙনে ফরিদপুর অঞ্চলের লাখ লাখ পরিবার গৃহহীন

প্রশাসনের অবস্থান

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ড্রেজার স্থাপনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে কার্যক্রম বন্ধে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্বেচ্ছায় ড্রেজার অপসারণ না করা হলে প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

ফরিদপুরের আরিয়াল খাঁ নদে ড্রেজার স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের এই প্রতিবাদ নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।