যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড। বার্নহামের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং তাকে সম্ভাব্য অর্থমন্ত্রী (চ্যান্সেলর) হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্য টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহামের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তৈরিতে মিলিব্যান্ড কয়েক সপ্তাহ ধরে কাজ করছেন। বিশেষ করে যেসব নীতির আর্থিক বা রাজস্বগত প্রভাব রয়েছে, সেগুলো নিয়ে তিনি সরাসরি বার্নহামের ট্রানজিশন টিমকে পরামর্শ দিচ্ছেন।
ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি
লেবার পার্টির এমপিদের সমর্থনে আগামী ১৭ জুলাই বার্নহাম যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে রয়েছেন। তার আগে তিনি নিজের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অর্থমন্ত্রী পদে মিলিব্যান্ড ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে মিলিব্যান্ডকে নিয়ে বার্নহামের ঘনিষ্ঠ মহলে মতভেদ রয়েছে। তার সমর্থকদের মতে, স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি মিলিব্যান্ডের রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি ব্যবসাবান্ধব নীতির ক্ষেত্রে যথেষ্ট নমনীয় নন এবং এতে বাজারের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উত্তর সাগরের তেল-গ্যাস ইস্যু
মিলিব্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি বড় সমালোচনা হলো, তিনি উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্সের বিরোধিতা করে আসছেন। অথচ বার্নহাম এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত অবস্থান নিয়েছেন।
তবে বার্নহামের এক জ্যেষ্ঠ মিত্র দাবি করেছেন, এ বিষয়ে দুজনের মতপার্থক্য অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। এর আগে জানা যায়, উত্তর সাগরের জ্যাকড’ প্রকল্প—যা প্রায় এক দশকের মধ্যে ব্রিটেনের প্রথম বড় তেল ও গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন উদ্যোগ—নিয়ে বিদ্যমান পরিকল্পনার প্রতি মিলিব্যান্ড সমর্থন জানিয়েছিলেন। যদিও সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তবে তিনি প্রকল্পটি অনুমোদনের পক্ষে ঝুঁকেছিলেন বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
সোমবারের এক ভাষণে বার্নহাম দেশের আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, তিনি “নম্বর ১০ ইন দ্য নর্থ” নামে একটি উদ্যোগ নিতে পারেন, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি অংশ ম্যানচেস্টারে স্থানান্তর করা হবে। এর লক্ষ্য হলো ওয়েস্টমিনস্টারকেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণ করা।
বার্নহাম তার প্রশাসনে সাবেক গোল্ডম্যান স্যাকস ব্যাংকার ও ট্রেজারি মন্ত্রী লর্ড ও’নিল অব গ্যাটলি এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হলডেনকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
![]()
নতুন প্রশাসনের আকার
হোয়াইটহল ও ওয়েস্টমিনস্টারের সংস্কারকে গুরুত্ব দিতে বার্নহাম তার চিফ অব স্টাফ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী জেমস পারনেলকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনিই বর্তমানে ট্রানজিশন টিমের কার্যক্রম তদারকি করছেন।
ওয়েস স্ট্রিটিং ও বার্নহাম দুজনই আয়কর বৃদ্ধির বদলে সম্পদের ওপর কর বাড়ানোর পক্ষে। তবে বার্নহামের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো মনে করে, স্ট্রিটিংকে অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে দেখা যেতে পারে।
এদিকে শাবানা মাহমুদও অর্থমন্ত্রী পদে আগ্রহী হলেও জানা গেছে, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের সময় সাক্ষাতের পর থেকে তার সঙ্গে বার্নহামের আর কোনো আলোচনা হয়নি।
বার্নহামের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী নিশ্চিত করেছেন যে, নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রণয়নে মিলিব্যান্ড “কেন্দ্রীয় ভূমিকা” পালন করছেন এবং ট্রানজিশন টিমের নীতিনির্ধারণী কাজেও সরাসরি অবদান রাখছেন।
ব্রিটেনের সম্ভাব্য নতুন সরকারে অর্থনৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্নে তাই এড মিলিব্যান্ডের নাম এখন সবচেয়ে আলোচিতদের একটি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















