বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের শক্তি, ভারসাম্য ও চলাফেরার সক্ষমতা ধরে রাখা অনেকের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। কিন্তু যেসব চিকিৎসক প্রতিদিন হাড়, জোড়া, পেশি ও লিগামেন্টের সমস্যা নিয়ে কাজ করেন, তারা নিজেদের সুস্থ রাখতে কিছু বিশেষ অভ্যাস অনুসরণ করেন। এসব অভ্যাস হয়তো সাধারণ ব্যায়ামের মতো পরিচিত নয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সচল ও শক্তিশালী রাখতে কার্যকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
কোর শক্তি বাড়ানোর গুরুত্ব
অর্থোপেডিক সার্জনদের মতে, শরীরের কেন্দ্রীয় অংশ বা কোর শক্তিশালী রাখা সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি। পেট, পিঠ ও কোমরের পেশি শক্তিশালী থাকলে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয় এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমে। অনেক চিকিৎসক প্রতিদিন অল্প সময়ের জন্য হলেও প্ল্যাঙ্কের মতো ব্যায়াম করেন, যা কোর পেশিকে সক্রিয় রাখে।
ছোট ছোট নড়াচড়ার অভ্যাস
সারাদিন একভাবে বসে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই অনেক সার্জন কাজের ফাঁকেও শরীরকে সচল রাখার চেষ্টা করেন। কেউ পায়ের আঙুলের ব্যায়াম করেন, কেউ দাঁড়িয়ে ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন করেন। এসব ছোট অভ্যাস পেশি ও জোড়াগুলোকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
ভারসাম্য ও নমনীয়তা ধরে রাখা
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য কমে যেতে পারে। এজন্য নিয়মিত ভারসাম্য রক্ষার ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এক পায়ে দাঁড়ানো, ধীরে ধীরে বসা ও ওঠার মতো সহজ অনুশীলনও শরীরের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বাড়ায়। একই সঙ্গে নমনীয়তা ধরে রাখতে নিয়মিত স্ট্রেচিং করাও প্রয়োজন।
![]()
মেঝেতে বসা ও ওঠার অনুশীলন
অনেক অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ মেঝেতে বসা এবং হাতের সাহায্য ছাড়া দাঁড়িয়ে ওঠার অনুশীলন করেন। এটি শুধু পায়ের শক্তিই নয়, শরীরের ভারসাম্য, নমনীয়তা ও সমন্বয় ক্ষমতারও পরীক্ষা। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সহজে এই কাজটি করতে পারেন, তাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।
অ্যাকিলিস টেনডন ও পায়ের যত্ন
চলাফেরার জন্য পায়ের পেশি ও টেনডন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অনেক সার্জন প্রতিদিন পায়ের পেছনের অংশ এবং অ্যাকিলিস টেনডন প্রসারণের ব্যায়াম করেন। এটি হাঁটা, দৌড়ানো এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত স্ট্রেচিং পেশির নমনীয়তা বাড়ায় এবং আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
শরীরের প্রতি নিয়মিত যত্নই মূল বিষয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ বার্ধক্যের জন্য বড় কোনো গোপন রহস্য নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনে। নিয়মিত নড়াচড়া, ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন, পেশি শক্তিশালী করা এবং নমনীয়তা ধরে রাখার মাধ্যমে বয়স বাড়লেও শরীরকে কর্মক্ষম রাখা সম্ভব।
বয়স বাড়লেও শক্তি ও ভারসাম্য ধরে রাখতে অর্থোপেডিক সার্জনদের অনুসরণ করা সহজ অভ্যাসগুলো জেনে নিন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















