০৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ পেন্টাগনের গোপন নথিতে কড়াকড়ি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের পর অ্যাক্সেস কমানো ময়লা ব্যবস্থাপনায় মিশর-চীন অংশীদারত্ব, কাজে লাগবে আধুনিক প্রযুক্তি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোর ভারতের ‘সারাং’ হেলিকপ্টার দলের অভিষেক, মিসরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩ পূর্বাঞ্চলীয় তেল শোধনাগার সম্প্রসারণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী?

সিউলের দিকে তাক করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থা পরীক্ষা, সামরিক শক্তি প্রদর্শনে কিম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির উন্নত আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একাধিক পরীক্ষা তদারকি করেছেন। সাম্প্রতিক এই পরীক্ষাগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ও আশপাশের অঞ্চলের প্রতি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা, যাতে কোনো প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সাহস না পায়।

উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে ছিল উন্নত বহু-নলবিশিষ্ট রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড এবং দীর্ঘ পাল্লার স্বয়ংচালিত হাউইটজার কামান।

পরীক্ষার সময় অস্ত্রগুলোর আঘাত হানার ক্ষমতা, নির্ভুলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা অস্ত্রগুলোকে আরও কার্যকর ও নির্ভুল করেছে।

North Korea's Kim hails tests of weapons that threaten South's capital |  International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

সিউল পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা

নতুন রকেট ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই রকেট ব্যবস্থা প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান থেকে এটি সিউল মহানগর এলাকার বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া ১৫৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত কামানের গোলার পাল্লাও বাড়ানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়া বলছে, এসব অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বিমানঘাঁটি, বন্দর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

কিমের সন্তোষ ও নতুন বার্তা

অস্ত্র পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিম জং উন। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার, দীর্ঘতর পাল্লা এবং অধিক নির্ভুলতার মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তর কোরিয়ার অগ্নিশক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে দেশটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বাড়িয়ে চলেছে। তার মতে, শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতিই যুদ্ধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Kim Jong-un hails tests of arms that threaten Seoul - Taipei Times

বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

সাম্প্রতিক সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশটির নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাব দিতেই তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

নৌবাহিনী ও সামরিক আধুনিকায়নে জোর

সম্প্রতি কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা, বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং নতুন ধরনের অস্ত্র সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ারও একটি অংশ।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ

সিউলের দিকে তাক করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থা পরীক্ষা, সামরিক শক্তি প্রদর্শনে কিম

১০:৪৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির উন্নত আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একাধিক পরীক্ষা তদারকি করেছেন। সাম্প্রতিক এই পরীক্ষাগুলোকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ও আশপাশের অঞ্চলের প্রতি শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা, যাতে কোনো প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সাহস না পায়।

উন্নত অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা

উত্তর কোরিয়ার সরকারি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিম জং উন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ব্যবস্থার পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে ছিল উন্নত বহু-নলবিশিষ্ট রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা, কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড এবং দীর্ঘ পাল্লার স্বয়ংচালিত হাউইটজার কামান।

পরীক্ষার সময় অস্ত্রগুলোর আঘাত হানার ক্ষমতা, নির্ভুলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে, যা অস্ত্রগুলোকে আরও কার্যকর ও নির্ভুল করেছে।

North Korea's Kim hails tests of weapons that threaten South's capital |  International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

সিউল পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা

নতুন রকেট ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাল্লা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। উত্তর কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, এই রকেট ব্যবস্থা প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান থেকে এটি সিউল মহানগর এলাকার বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে পারে।

এ ছাড়া ১৫৫ মিলিমিটার স্বয়ংচালিত কামানের গোলার পাল্লাও বাড়ানো হয়েছে। উত্তর কোরিয়া বলছে, এসব অস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বিমানঘাঁটি, বন্দর এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

কিমের সন্তোষ ও নতুন বার্তা

অস্ত্র পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কিম জং উন। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার, দীর্ঘতর পাল্লা এবং অধিক নির্ভুলতার মাধ্যমে দক্ষিণ সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তর কোরিয়ার অগ্নিশক্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে দেশটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও বাড়িয়ে চলেছে। তার মতে, শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতিই যুদ্ধ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

Kim Jong-un hails tests of arms that threaten Seoul - Taipei Times

বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

সাম্প্রতিক সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। দেশটির নেতৃত্বের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডের জবাব দিতেই তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

নৌবাহিনী ও সামরিক আধুনিকায়নে জোর

সম্প্রতি কিম জং উন উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা, বড় আকারের যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং নতুন ধরনের অস্ত্র সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষা শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা প্রদর্শন নয়, বরং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ারও একটি অংশ।