একসঙ্গে দুটি ক্রান্তীয় ঝড়ের প্রভাবে জাপান ও তাইওয়ানে দেখা দিয়েছে ব্যাপক দুর্যোগ পরিস্থিতি। প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধসের ঝুঁকি এবং পরিবহন ব্যবস্থার বড় ধরনের বিঘ্নে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। জাপানে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।
জাপানে সতর্কতা, লাখো মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
জাপানের আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ উচ্চমাত্রার ভূমিধস সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সঙ্গে দুটি ক্রান্তীয় ঝড়ের আর্দ্র বাতাস মিলিত হয়ে ব্যাপক বর্ষণ ঘটাচ্ছে।
পরিস্থিতির কারণে ২০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বহু ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং বিভিন্ন মহাসড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের কিউশু এলাকায় একটি গাড়ি উৎপাদন কারখানাও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। ফলে নদীর পানি বৃদ্ধি, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
দুই ঝড়ের সম্মিলিত প্রভাব
দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার পর একটি ঝড় দ্রুতগতিতে জাপানের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সময়ে আরেকটি ঝড় দেশটির পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জনগণকে বজ্রপাত, ঝোড়ো বাতাস এবং হঠাৎ সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিমানবন্দর, সড়ক ও রেলপথেও অতিরিক্ত বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাইওয়ানে বন্যায় জনজীবন স্থবির
অন্যদিকে, প্রবল বর্ষণে তাইওয়ানের দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান রেল যোগাযোগের একটি অংশও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। অনেক দোকান ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের তুলনায় সকালে বৃষ্টির তীব্রতা অনেক বেড়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি অব্যাহত থাকে।
প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছেন। কিছু এলাকায় মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পাহাড়ি এলাকায় নতুন আশঙ্কা
তাইওয়ানের একটি পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত পানি জমে একটি প্রাকৃতিক বাধা হ্রদ সৃষ্টি হওয়ায় নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে প্রায় ২০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে একই ধরনের প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে ভয়াবহ বন্যা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
দুই অঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ঝড় ও মৌসুমি বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















