০১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
চীন-রাশিয়ার যৌথ বোমারু টহলে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান মোতায়েন মেসির গোলে বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে স্পষ্ট এগিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক কেনড্রিক লামারের সঙ্গে বন্ধুত্ব, বিশ্ব শিরোপার আগে আইরিশ বক্সারের বিশেষ আমন্ত্রণ বিশ্বকাপের নকআউটে আজ ব্রাজিল-জাপান মহারণ, মুখোমুখি নেদারল্যান্ডস-মরক্কো নাটোরে অক্সিজেন বন্ধের অভিযোগে নারীর মৃত্যু, হাসপাতাল মালিক আটক সোনার দাম ভরিতে কমল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা; নতুন দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা প্রখ্যাত শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ‘বাংলাদেশের পাপেট ম্যান’ মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই নাটোরে পৃথক ঘটনায় রিকশাচালক ও বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার, রহস্য ঘিরে তদন্ত নতুন প্রজন্মের জন্য হোন্ডার নতুন বাজি: কেন আলোচনায় জেডআর-ভি এসইউভি লেক্সাস ইএস৩৫০ই: বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক সেডানের নতুন ঠিকানা

হংকংয়ে সন্তান পালনের খরচে শহর ছাড়ছে পরিবার, গ্রামীণ জীবনের দিকে ঝুঁকছেন অভিভাবকরা

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হংকংয়ে সন্তান লালন-পালনের বাড়তি খরচ অনেক পরিবারকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। উন্নত জীবনমান ও শিশুদের জন্য ভালো পরিবেশের খোঁজে এখন অনেকেই শহরের কেন্দ্র ছেড়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত ও কম ব্যয়বহুল এলাকায় চলে যাচ্ছেন।

এমনই একটি পরিবারের গল্প উদ্যোক্তা বার্বি হোর। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ও তার স্বামী হংকংয়ের কজওয়ে বে এলাকার কাছে অবস্থিত তাই হ্যাংয়ের বাসা ছেড়ে লানতাউ দ্বীপের উপকূলীয় শহর মুই ও-তে চলে যান। শহরের কেন্দ্র থেকে সেখানে যেতে প্রায় ৩০ মিনিটের ফেরি যাত্রা করতে হয়।

তাদের ছেলের বয়স এখন ছয় বছর। সন্তানকে প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে বড় করে তোলার লক্ষ্যেই তারা শহুরে সুবিধা ছেড়ে নতুন জীবন বেছে নিয়েছেন।

ভাড়া অর্ধেকে, জায়গা প্রায় দ্বিগুণ

বার্বি হোর মতে, সন্তানের জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবারকে ব্যয়ের হিসাব নতুন করে সাজাতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আবাসন ব্যয়ে।

শহরের কেন্দ্রের বাসা ছেড়ে মুই ও-তে যাওয়ার ফলে তাদের মাসিক ভাড়া প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বাসস্থানের আয়তনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে তারা প্রায় ৪০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। এখন তাদের বাড়ির আয়তন প্রায় ৭৫০ বর্গফুট।

নতুন বাড়ির সঙ্গে রয়েছে নিজস্ব বাগান, চারপাশে সবুজ প্রকৃতি এবং কাছেই সমুদ্রসৈকত। পরিবারের মতে, এই পরিবেশ তাদের সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য অনেক বেশি উপযোগী।

প্রকৃতির কাছে শিশুদের বড় করার আকাঙ্ক্ষা

হংকংয়ের ব্যস্ত নগরজীবনে খোলা জায়গার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে অনেক অভিভাবক এখন এমন জায়গা খুঁজছেন যেখানে শিশুদের খেলাধুলা ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থাকবে।

বার্বি হো বলেন, ধীরগতির ও শান্ত জীবনধারা তাদের পরিবারের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে সন্তানকে প্রকৃতির মাঝে বড় করার সুযোগ পাওয়াকে তারা সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

আবাসন সংকট ও জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ

হংকংয়ে দীর্ঘদিন ধরে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম এবং ভাড়া পরিবারগুলোর জন্য বড় চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, আবাসন ব্যয়ই দেশটির কম জন্মহারের অন্যতম কারণ।

সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, হংকংয়ে একটি সাধারণ পরিবারের নিজস্ব বাড়ি কিনতে গড়ে ১৪ বছরেরও বেশি সময়ের সমপরিমাণ পূর্ণ বার্ষিক আয় প্রয়োজন হয়। ফলে সন্তান নেওয়া এবং পরিবার বড় করার সিদ্ধান্তেও আর্থিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

এই বাস্তবতায় অনেক পরিবার এখন শহরের কেন্দ্রের সুবিধার চেয়ে কম খরচে বড় বাসস্থান, উন্নত পরিবেশ এবং ভালো জীবনমানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে হংকংয়ের শহরতলি ও অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বসবাসের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।

 

 

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীন-রাশিয়ার যৌথ বোমারু টহলে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধবিমান মোতায়েন

হংকংয়ে সন্তান পালনের খরচে শহর ছাড়ছে পরিবার, গ্রামীণ জীবনের দিকে ঝুঁকছেন অভিভাবকরা

১০:৫১:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত হংকংয়ে সন্তান লালন-পালনের বাড়তি খরচ অনেক পরিবারকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। উন্নত জীবনমান ও শিশুদের জন্য ভালো পরিবেশের খোঁজে এখন অনেকেই শহরের কেন্দ্র ছেড়ে অপেক্ষাকৃত শান্ত ও কম ব্যয়বহুল এলাকায় চলে যাচ্ছেন।

এমনই একটি পরিবারের গল্প উদ্যোক্তা বার্বি হোর। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ও তার স্বামী হংকংয়ের কজওয়ে বে এলাকার কাছে অবস্থিত তাই হ্যাংয়ের বাসা ছেড়ে লানতাউ দ্বীপের উপকূলীয় শহর মুই ও-তে চলে যান। শহরের কেন্দ্র থেকে সেখানে যেতে প্রায় ৩০ মিনিটের ফেরি যাত্রা করতে হয়।

তাদের ছেলের বয়স এখন ছয় বছর। সন্তানকে প্রকৃতির কাছাকাছি পরিবেশে বড় করে তোলার লক্ষ্যেই তারা শহুরে সুবিধা ছেড়ে নতুন জীবন বেছে নিয়েছেন।

ভাড়া অর্ধেকে, জায়গা প্রায় দ্বিগুণ

বার্বি হোর মতে, সন্তানের জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করতে গিয়ে পরিবারকে ব্যয়ের হিসাব নতুন করে সাজাতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আবাসন ব্যয়ে।

শহরের কেন্দ্রের বাসা ছেড়ে মুই ও-তে যাওয়ার ফলে তাদের মাসিক ভাড়া প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বাসস্থানের আয়তনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে তারা প্রায় ৪০০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। এখন তাদের বাড়ির আয়তন প্রায় ৭৫০ বর্গফুট।

নতুন বাড়ির সঙ্গে রয়েছে নিজস্ব বাগান, চারপাশে সবুজ প্রকৃতি এবং কাছেই সমুদ্রসৈকত। পরিবারের মতে, এই পরিবেশ তাদের সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য অনেক বেশি উপযোগী।

প্রকৃতির কাছে শিশুদের বড় করার আকাঙ্ক্ষা

হংকংয়ের ব্যস্ত নগরজীবনে খোলা জায়গার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে অনেক অভিভাবক এখন এমন জায়গা খুঁজছেন যেখানে শিশুদের খেলাধুলা ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে বেড়ে ওঠার সুযোগ থাকবে।

বার্বি হো বলেন, ধীরগতির ও শান্ত জীবনধারা তাদের পরিবারের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। বিশেষ করে সন্তানকে প্রকৃতির মাঝে বড় করার সুযোগ পাওয়াকে তারা সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন।

আবাসন সংকট ও জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ

হংকংয়ে দীর্ঘদিন ধরে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম এবং ভাড়া পরিবারগুলোর জন্য বড় চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, আবাসন ব্যয়ই দেশটির কম জন্মহারের অন্যতম কারণ।

সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, হংকংয়ে একটি সাধারণ পরিবারের নিজস্ব বাড়ি কিনতে গড়ে ১৪ বছরেরও বেশি সময়ের সমপরিমাণ পূর্ণ বার্ষিক আয় প্রয়োজন হয়। ফলে সন্তান নেওয়া এবং পরিবার বড় করার সিদ্ধান্তেও আর্থিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।

এই বাস্তবতায় অনেক পরিবার এখন শহরের কেন্দ্রের সুবিধার চেয়ে কম খরচে বড় বাসস্থান, উন্নত পরিবেশ এবং ভালো জীবনমানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে হংকংয়ের শহরতলি ও অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বসবাসের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।