দেশের বাজারে আবারও কমেছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) প্রতি ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা, যার মধ্যে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে খাঁটি (তেজাবি) সোনার দাম কমে যাওয়ায় এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে সোমবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাজুস।
বিভিন্ন ক্যারেটের নতুন দাম
সংশোধিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে গহনার নকশা ও ধরন অনুযায়ী মজুরি বা মেকিং চার্জ ভিন্ন হতে পারে।
ভ্যাট ও গহনা কেনাবেচার নিয়ম
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, খুচরা পর্যায়ে সোনার গহনার মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
এছাড়া গহনা ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম বহাল থাকবে। তবে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য এর বাইরে থাকবে। রুপার গহনার ভ্যাট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেছে বাজুস।
দুই দিনের ব্যবধানে দাম কমল

এর মাত্র দুই দিন আগে, ২৭ জুন বাজুস প্রতি ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা।
২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত বাজুস মোট ৮৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে। এর মধ্যে ৪১ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪১ বার কমানো হয়েছে এবং একবার কেবল ভ্যাট-সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
সোনার দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার এক ভরির দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
সোনার দামে আবারও সংশোধন এনে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও অলংকার কেনার ক্ষেত্রে মজুরি ও অন্যান্য প্রযোজ্য খরচ আগের নিয়মেই বহাল থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















