স্কুল ছুটি হওয়ার অনেক ঘণ্টা পরেও নয় বছরের লি ইউয়েহ-কাইয়ের দিনের ব্যস্ততা শেষ হয় না। তাইওয়ানের তাইচুং শহরের এই শিশুর প্রতিদিনের রুটিনে রয়েছে স্কুলের পর অতিরিক্ত পাঠদান, ভাষা শিক্ষা এবং অসংখ্য অনুশীলনী। বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত ৯টা বেজে যায়, আর সপ্তাহান্তের ছুটিও কাটে অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে।
ইউয়েহ-কাইয়ের মা সুং শিন-চিয়ে বলেন, পরিবারের সবচেয়ে ব্যস্ত সদস্য এখন তাঁর ছেলে। তিনি স্বীকার করেন, শিশুটির ওপর যে শিক্ষাগত চাপ তৈরি হয়েছে তা অনেক বেশি। তবুও তিনি মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুব সীমিত।
শিক্ষায় এগিয়ে থাকার প্রতিযোগিতা
অনেক অভিভাবকের মতো সুংও বিশ্বাস করেন, ভালো শিক্ষা ভবিষ্যতে সন্তানকে একটি স্বচ্ছল ও নিরাপদ জীবন গড়ার সুযোগ দিতে পারে। তাই সন্তানের পড়াশোনায় কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তিনি।
তাঁর ভাষায়, সমাজের প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার বাইরে থাকা কঠিন। অন্য সবাই যে পথে এগোচ্ছে, সেই পথ অনুসরণ না করলে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তিনি চান না তাঁর ছেলে সবার সেরা হোক, তবে একেবারে পিছিয়েও থাকুক সেটাও চান না।
কর্মজীবী বাবা-মায়ের বাস্তবতা
শুধু শিক্ষার প্রতিযোগিতাই নয়, পারিবারিক বাস্তবতাও শিশুদের দীর্ঘ সময় পাঠকেন্দ্রে কাটানোর একটি বড় কারণ। ইউয়েহ-কাইয়ের বাবা-মা দুজনই পূর্ণকালীন চাকরি করেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে স্কুল শেষে সন্তানকে নিয়ে যাওয়া কিংবা তার দেখভাল করা তাঁদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না।
ফলে স্কুল-পরবর্তী শিক্ষাকেন্দ্র অনেক পরিবারের জন্য এক ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। সেখানে শিশুরা পড়াশোনা করে, বাড়ির কাজ সম্পন্ন করে এবং অভিভাবকদের কর্মদিবস শেষ হওয়া পর্যন্ত সময় কাটায়।
বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়
অভিভাবকদের মতে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিবারের আর্থিক স্থিতি ধরে রাখতে অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা দুজনকেই কাজ করতে হচ্ছে। ফলে সন্তানদের জন্য অতিরিক্ত তদারকির সুযোগ কমে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন সমাজে শিক্ষা, কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার মধ্যে শক্ত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে। অনেক পরিবারই মনে করছে, কঠিন প্রতিযোগিতার এই পরিবেশে সন্তানের জন্য অতিরিক্ত শিক্ষা আর বিকল্প নয়, বরং প্রয়োজন।
এই বাস্তবতায় শিশুদের অবসর, খেলাধুলা ও পারিবারিক সময় কমে গেলেও অধিকাংশ অভিভাবক মনে করছেন, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় তাঁদের সামনে অন্য কোনো সহজ পথ নেই।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















