দুবাই: নির্বাসনে যেতে বাধ্য হওয়ার প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি এ বছরই দেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর ভাষ্য, এই লড়াই ক্ষমতায় ফেরার জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য।
এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা মৃত্যুদণ্ড কিংবা আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তাঁকে ভয় দেখাতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো তাঁর দেশে ফেরাকে ঠেকাতে পারবে না।
তিনি বলেন, “আমার দেশে ফেরা জনগণের রাজনৈতিক অধিকার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জীবনে একাধিক হত্যাচেষ্টা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়েও তিনি টিকে আছেন।
শেখ হাসিনার দাবি, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের শিকড় বাংলাদেশের সর্বত্র গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে।
গত সপ্তাহে দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রেপ্তার ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও সমর্থকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।
তিনি এই ধারণাও নাকচ করেন যে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার ওপরই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থর নির্ভর করছে। তাঁর মতে, ইতিহাসে বহুবার নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন অতিক্রম করে দলটি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করেছে, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং উগ্রবাদের বিস্তার ঘটতে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার প্রধান দাবিগুলো
- তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
- নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এখনও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি।
- বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে দুর্বল করছে।
- তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বেড়েছে।
- বিএনপির সঙ্গে গোপন আলোচনার খবর তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
- ক্ষমতায় ফেরা নয়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।
শেখ হাসিনার দাবি, মন্দির ও উপাসনালয়ে হামলা, সংখ্যালঘু নেতাদের ভয়ভীতি দেখানো এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর সহিংসতা বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ
তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা শুধু নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ের ওপরও আঘাত।
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে বিএনপির সঙ্গে গোপন আলোচনার খবরও অস্বীকার করেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায়বিচার কোনো গোপন সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।
তিনি দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো প্রত্যাহার, রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ভারতে নির্বাসিত জীবন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও বাংলাদেশ থেকে দূরে থাকা তাঁর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি জানান, প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতির খোঁজ রাখেন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার সংগ্রাম থেমে যায়নি।” একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সমর্থনের মাধ্যমে একসময় আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় ফিরবে।
স্টিফেন এন আর 



















