০৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা ৮৮০ বাগেরহাট হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, চালক আহত; পুড়ল ৯ মোটরসাইকেল মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা ফেডপ্রধান ওয়ারশের ‘গানের মাহাত্ম্য গায়কের চেয়েও বড়’: নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে উষা উত্থুপ মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যেই পরীক্ষা হবে ফেডপ্রধান ওয়ারশের নেতৃত্ব গালফের ভারতীয় প্রবাসীরা এখন শুধু রেমিট্যান্স পাঠান না, গড়ছেন বৈশ্বিক সম্পদ পর্দাহীন গারমিন সিরকা: তথ্য দেবে, কিন্তু মনোযোগ কেড়ে নেবে না ড্রোন হামলা বন্ধ না হলে জাওয়িয়া তেল শোধনাগার বন্ধের হুঁশিয়ারি লিবিয়ার তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর: অন্তত তিস্তা চুক্তি তো আশা করতে পারে বাংলাদেশ

সুনামগঞ্জে আকস্মিক গ্যাস সংকট: রান্নাঘর থেকে সিএনজি স্টেশন—চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

সুনামগঞ্জে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে তীব্র দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে অধিকাংশ পরিবার রান্না করতে পারেনি। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি। আপাতত গ্রাহকদের বিকল্প উপায়ে রান্নার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহে স্থবিরতায় জনজীবনে প্রভাব

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যেতে শুরু করে। শুরুতে অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা মনে করলেও পরে দেখা যায়, প্রায় পুরো শহরেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য গ্যাস এলেও তা রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে বহু পরিবারকে রান্না ছাড়াই সময় কাটাতে হয়েছে কিংবা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

৮২ দিন পর চালু সিনথিয়া সিএনজি গ্যাস পাম্প

সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। শহরের সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাস নিতে আসা চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। কেউ কেউ রাত পর্যন্ত পাম্প এলাকায় অবস্থান করেছেন।

হাজারো যানবাহন নির্ভর গ্যাসের ওপর

জালালাবাদ গ্যাসের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪ হাজার ১৫৫টি আবাসিক সংযোগ, ৫২টি কলোনি সংযোগ, ২৮টি বাণিজ্যিক সংযোগ, দুটি শিল্প সংযোগ, দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দুটি জেনারেটর সংযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৫০টি লেগুনা, ৪৫০টি কার ও মাইক্রোবাস এবং শতাধিক বাস ও ট্রাক এই গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুনামগঞ্জে হঠাৎ গ্যাস সংকট, রান্না বন্ধ, সিএনজি পাম্পে হাহাকার

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (আবিকা প্রধান) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

লোবিতো করিডর থেকে নতুন বিশ্বব্যবস্থা: খনিজের সঙ্গে এখন ডেটারও লড়াই

সুনামগঞ্জে আকস্মিক গ্যাস সংকট: রান্নাঘর থেকে সিএনজি স্টেশন—চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

০২:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সুনামগঞ্জে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরজুড়ে তীব্র দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে অধিকাংশ পরিবার রান্না করতে পারেনি। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের।

জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড। তবে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেনি। আপাতত গ্রাহকদের বিকল্প উপায়ে রান্নার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহে স্থবিরতায় জনজীবনে প্রভাব

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যেতে শুরু করে। শুরুতে অনেকেই এটিকে সাময়িক সমস্যা মনে করলেও পরে দেখা যায়, প্রায় পুরো শহরেই একই অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য সামান্য গ্যাস এলেও তা রান্নার জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে বহু পরিবারকে রান্না ছাড়াই সময় কাটাতে হয়েছে কিংবা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

৮২ দিন পর চালু সিনথিয়া সিএনজি গ্যাস পাম্প

সিএনজি স্টেশনেও দীর্ঘ অপেক্ষা

গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। শহরের সিনথিয়া ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে গ্যাস নিতে আসা চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাননি। কেউ কেউ রাত পর্যন্ত পাম্প এলাকায় অবস্থান করেছেন।

হাজারো যানবাহন নির্ভর গ্যাসের ওপর

জালালাবাদ গ্যাসের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪ হাজার ১৫৫টি আবাসিক সংযোগ, ৫২টি কলোনি সংযোগ, ২৮টি বাণিজ্যিক সংযোগ, দুটি শিল্প সংযোগ, দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং দুটি জেনারেটর সংযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৫০টি লেগুনা, ৪৫০টি কার ও মাইক্রোবাস এবং শতাধিক বাস ও ট্রাক এই গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সুনামগঞ্জে হঠাৎ গ্যাস সংকট, রান্না বন্ধ, সিএনজি পাম্পে হাহাকার

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয়ের আবাসিক প্রকৌশলী (আবিকা প্রধান) মো. মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এ কারণে গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।