থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী শহর পায়াথাইয়ে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীর মরদেহ একটি স্যুটকেসের ভেতর থেকে উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে হত্যা-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা করেছে থাই পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা এবং প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত আছে।
বন্ধুর অভিযোগ থেকে তদন্তের শুরু
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে পায়াথাইয়ের সমুদ্রসৈকত এলাকায় ওই কিশোরী এক বিদেশি ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। দুজনের মধ্যে কথাবার্তার পর তারা একসঙ্গে ওই ব্যক্তির কনডোমিনিয়ামে যান।
শুক্রবার বিকেলে কিশোরীর এক বন্ধু থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, শেষবার ওই কিশোরীকে এক বিদেশি ব্যক্তির সঙ্গে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে এটুকুই তথ্য ছিল যে ওই ব্যক্তি তাকে একটি কনডোমিনিয়ামে নিয়ে গিয়েছিলেন।
সিসিটিভিতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং সংশ্লিষ্ট কনডোমিনিয়ামে তল্লাশি চালায়। সেখানে সন্দেহভাজনের পাসপোর্ট উদ্ধার হলেও তখন পর্যন্ত ওই ব্যক্তি কিংবা কিশোরীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে এক তরুণী ও এক বিদেশি পুরুষ হাত ধরে লিফটে উঠছেন। পরে আরেকটি ফুটেজে একই ব্যক্তিকে একটি বড় কালো স্যুটকেস টেনে ভবন থেকে বের হতে দেখা যায়।
স্যুটকেসে মরদেহ, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার
শনিবার ভোরে রেললাইনের পাশে কোমরসমান ঘাসের মধ্যে একটি কালো স্যুটকেস থেকে কিশোরীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রায় একই সময়ে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক সাইমন পিটার কারম্যানকে আটক করে থাই অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যা, মরদেহ গোপন করা, মরদেহ স্থানান্তর বা ধ্বংসের চেষ্টা এবং অশালীন উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ককে প্রলুব্ধ করার অভিযোগ এনেছে।
আংশিক স্বীকারোক্তির দাবি পুলিশের
পায়াথাই সিটি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আংশিকভাবে ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের দাবি, তার বক্তব্য অনুযায়ী দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তিনি কিশোরীর গলা চেপে ধরেন, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। তবে তিনি হত্যার ইচ্ছা ছিল না বলে দাবি করেছেন।
পুলিশ আরও জানায়, মৃত্যুর পর প্রথমে মরদেহটি স্যুটকেসে রাখা হয় এবং পরে ভবনের বাইরে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
তদন্ত চলছে
থাই পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফল এখনও হাতে আসেনি। তদন্তকারীরা আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। এসব নথি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হবে। পরে তারা অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে নিহত কিশোরীর সৎমা ওরাদি বুসারাকুম জানান, স্যুটকেসে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেখেই তাদের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে সেই আশঙ্কাই সত্যি হওয়ায় পরিবারটি গভীর শোকে ভেঙে পড়েছে।
পায়াথাই দীর্ঘদিন ধরেই রাতের জীবন ও পর্যটনের জন্য পরিচিত। একই সঙ্গে সেখানে যৌন শোষণ, বিশেষ করে শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বহু বছর ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
থাইল্যান্ডের পায়াথাইয়ে ১৭ বছরের এক কিশোরীর মরদেহ স্যুটকেসে উদ্ধারের ঘটনায় অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















