ওয়াশিংটনের অন্যতম পরিচিত দর্শনীয় স্থান লিংকন স্মৃতিসৌধের প্রতিফলন জলাধার সম্প্রতি সংস্কারের কাজের কারণে আলোচনায় উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উদযাপনকে সামনে রেখে জলাধারটির সৌন্দর্য বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের শুরুতে সেখানে সবুজ শৈবালের বিস্তার এবং পানির রং পরিবর্তন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতিতে ওহাইওভিত্তিক ক্ষুদ্র পানি পরিশোধন প্রতিষ্ঠান গ্রিনওয়াটার সার্ভিসেসকে জলাধার পরিষ্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তির মাধ্যমে পানির স্বচ্ছতা উল্লেখযোগ্যভাবে ফিরে এসেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে জলাধারের পানি আগের তুলনায় অনেক পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।
সংস্কার শেষে উৎসবের প্রস্তুতি
জুলাইয়ের শুরুতে জাতীয় উৎসব উপলক্ষে জলাধার এলাকায় বিভিন্ন প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং এলাকাজুড়ে বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। পরিষ্কার পানির কারণে পর্যটকদের কাছেও স্থানটি আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করছেন।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা উন্নত পানি বিশুদ্ধকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ যন্ত্রের মাধ্যমে অতি ক্ষুদ্র ওজোন বুদবুদ পানির ভেতরে ছড়িয়ে দিয়ে দূষণ ও জীবাণু কমানোর চেষ্টা করা হয়। এই প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্পে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
তবে এই প্রকল্প ঘিরে বিতর্কের মূল কারণ হয়ে উঠেছে ঠিকাদারি প্রক্রিয়া। প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়া হয়েছে বলে সমালোচনা উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির একজন বিনিয়োগকারীর অতীত আইনি ইতিহাস নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বিনিয়োগকারীর ভূমিকা কেবল বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং প্রকল্প পরিচালনা বা দৈনন্দিন কার্যক্রমে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অন্য প্রকল্পেও একই প্রযুক্তি
গ্রিনওয়াটার সার্ভিসেস এর আগে সীমান্তবর্তী দূষিত নদীর পানি পরিশোধনের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পেও কাজ করেছে। সেখানে তাদের প্রযুক্তির কার্যকারিতা মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায়। ফলে প্রত্যাশিত ফলাফল পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি।
সরকারি অবস্থান
প্রকল্পটি নিয়ে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঠিকাদারি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় বিবেচনার ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারি অর্থে পরিচালিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া কাজ দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি এখনো জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংস্কার কার্যক্রম ভবিষ্যতে কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লিংকন স্মৃতিসৌধের জলাধার সংস্কার ঘিরে বিতর্ক, ঠিকাদারি প্রক্রিয়া ও পানি পরিশোধন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















