ইন্দোনেশিয়ায় ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পর দেশজুড়ে মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের বড় একটি অংশ তুলনামূলক সস্তা ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দিকে ঝুঁকেছেন। এতে বিশেষ করে জাকার্তার বিভিন্ন পেট্রোলপাম্পে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে, আর যাতায়াতনির্ভর কর্মজীবীদের ব্যয়ও বেড়েছে।
গত ১০ জুন রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্টামিনার বাণিজ্যিক শাখা পিটি পার্টামিনা পাত্রা নিয়াগা ভর্তুকিবিহীন রন-৯২ পার্টাম্যাক্সের দাম লিটারপ্রতি ১২ হাজার ৩০০ রুপিয়া থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ২৫০ রুপিয়া এবং রন-৯৫ পার্টাম্যাক্স গ্রিনের দাম ১২ হাজার ৯০০ রুপিয়া থেকে ১৭ হাজার রুপিয়ায় উন্নীত করে। তবে ভর্তুকিযুক্ত পার্টালাইট ও বায়োসোলারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জাকার্তার পূর্বাঞ্চলের সিপায়ুং এলাকার অনলাইন মোটরসাইকেল ট্যাক্সিচালক সামসুদিন আগে নিয়মিত পার্টাম্যাক্স ব্যবহার করতেন। তার বিশ্বাস ছিল, এটি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের জন্য বেশি উপযোগী। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির পর তিনি খরচ কমাতে লিটারপ্রতি ১০ হাজার রুপিয়ার পার্টালাইট ব্যবহার শুরু করেছেন।
৫২ বছর বয়সী এই চালকের ভাষায়, প্রতি লিটারে কয়েক হাজার রুপিয়া বাড়লেও মোট ব্যয়ের ওপর তার প্রভাব অনেক বেশি। জ্বালানির পাশাপাশি মোটরসাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্যান্য খরচও বহন করতে হয়। অথচ আয় বাড়েনি। ফলে খরচ সামলাতে জ্বালানি পরিবর্তন করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
দীর্ঘ লাইনের কারণে এখন তিনি ভোরের আগেই বাড়ি থেকে বের হন, যাতে দ্রুত জ্বালানি নিয়ে দিনের বেশি সময় যাত্রী পরিবহনে ব্যয় করতে পারেন।
জাকার্তার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল এবং পশ্চিম জাভার বেকাসির একাধিক পেট্রোলপাম্পে দেখা গেছে, পার্টালাইট নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের লাইন স্টেশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বিপরীতে পার্টাম্যাক্স সরবরাহের পাম্পগুলোতে অপেক্ষাকৃত কম ভিড় দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক ও আইনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেলিওসের নির্বাহী ভিমা ইউধিস্তিরা মনে করেন, ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির বড় মূল্যবৃদ্ধির পর ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দিকে মানুষের ঝুঁকে পড়া স্বাভাবিক। তবে এর ফলে শুধু পেট্রোলপাম্পে ভিড়ই বাড়বে না, যাতায়াতনির্ভর কর্মীদের উৎপাদনশীলতাও কমবে এবং পরিবারের ব্যয়যোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
বানতেনের টাঙ্গেরাংয়ের ২৮ বছর বয়সী অফিসকর্মী ইরশাদও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাসিক বাজেটে চাপ অনুভব করছেন। খরচ বাঁচাতে তিনি মাঝে মধ্যে পার্টালাইট ব্যবহার করছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণও কমিয়ে দিয়েছেন। তার মতে, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে মূল্যবৃদ্ধি হয়তো এড়ানো কঠিন ছিল, তবে সরকার আগেভাগে প্রস্তুতি নিলে পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়া যেত।

এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে এপ্রিল মাসে পার্টামিনা রন-৯৮ পার্টাম্যাক্স টার্বো ও পার্টামিনা ডেক্সসহ অন্যান্য ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দামও বাড়ায়।
ইন্দোনেশিয়ান এমপাওয়ার্ড কনজিউমার ফোরামের চেয়ারম্যান তুলুস আবাদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হলেও এর ফলে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা আরও দুর্বল হবে এবং ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়বে।
তিনি সরকারকে সম্ভাব্য পার্টালাইট সংকট মোকাবিলায় গণপরিবহনে ভর্তুকি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান, যাতে মানুষ ব্যক্তিগত যানবাহনের বদলে গণপরিবহন ব্যবহার করতে উৎসাহিত হয় এবং ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির ওপর চাপ কমে।
অন্যদিকে পার্টামিনা পাত্রা নিয়াগা জানিয়েছে, জাতীয় চাহিদা পূরণের জন্য পার্টালাইটের মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, বেশি চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় জ্বালানি টার্মিনাল ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়েছে এবং ভোরেই পেট্রোলপাম্পে সরবরাহ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দিনের ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ সারি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ভর্তুকিযুক্ত তেলের চাহিদা এবং দীর্ঘ সারির এই পরিস্থিতি এখন ইন্দোনেশিয়ার নগরজীবন ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানির দাম বাড়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে, সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ সারি। সরকার পর্যাপ্ত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















