ভারত সরকার আগামী ১ জুলাই থেকে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রির ওপর আরোপিত অস্থায়ী বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটে চলতি মাসে এই জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় সতর্কতা
সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের আওতায় বাণিজ্যিক গ্রাহকদের খুচরা জ্বালানি স্টেশন থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কেনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ডিজেল কেনার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ভারত এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় মজুত সুরক্ষিত রাখাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য।
১ জুলাই থেকে ফিরছে স্বাভাবিক ব্যবস্থা
সরকার জানিয়েছে, ১ জুলাই থেকে এসব অস্থায়ী বিধিনিষেধ আর কার্যকর থাকবে না। ফলে বাণিজ্যিক গ্রাহকেরা আবারও স্বাভাবিক নিয়মে খুচরা জ্বালানি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পেট্রোল ও ডিজেল কিনতে পারবেন। একই সঙ্গে ডিজেল কেনার দৈনিক সীমাবদ্ধতাও তুলে নেওয়া হবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে গৃহীত বিধিনিষেধের অবসান ঘটছে এবং দেশের জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থা আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাবে।
পটভূমি
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে অনেক দেশই সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। সেই প্রেক্ষাপটেই ভারত সম্ভাব্য ঘাটতি এড়াতে সাময়িক বিক্রিনিষেধ আরোপ করেছিল।
বর্তমানে সরকার মনে করছে, জরুরি ওই ব্যবস্থা আর বহাল রাখার প্রয়োজন নেই। তাই ১ জুলাই থেকে আগের নিয়মে জ্বালানি বিক্রি চালু করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে।
ভারত ১ জুলাই থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর আরোপিত অস্থায়ী বিক্রিনিষেধ তুলে নিচ্ছে। যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় নেওয়া এই ব্যবস্থা এখন প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















