যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক আয় নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে তার নতুন আয় অন্তত ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এই বিপুল আয়ের বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে লাভবান হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্রিপ্টো ব্যবসা ঘিরে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন
আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্প পরিবারের সহ-প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান থেকে প্রেসিডেন্টের আয় হয়েছে প্রায় ৭৯৯ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক আগে চালু হওয়া $TRUMP নামের মিমকয়েন থেকেও তার আয় হয়েছে প্রায় ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার। এই দুই খাত মিলিয়ে যে পরিমাণ অর্থ এসেছে, তা ২০২৪ সালে তার অন্যান্য সব ব্যবসা থেকে অর্জিত মোট আয়েরও বেশি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে স্টেবলকয়েন-সংক্রান্ত আইন অনুমোদন এবং মিমকয়েনের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার অবস্থান পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ তার ব্যবসায়িক স্বার্থকে সহায়তা করেছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।
ঐতিহাসিকদের নজরে ব্যতিক্রম
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিদের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, অতীতে প্রেসিডেন্টরা সাধারণত সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ব্যক্তিগত ব্যবসা থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। অনেকেই দায়িত্ব গ্রহণের আগে ব্যবসা বিক্রি করেছেন, আবার কেউ কেউ সম্পদের ব্যবস্থাপনা স্বাধীন ট্রাস্টির হাতে তুলে দিয়েছেন।
তাদের মতে, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দায়িত্বে থাকার সময়ই নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সেখান থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান
সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউসের দাবি, ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা পরিচালনা করেন প্রেসিডেন্টের দুই ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। তাই প্রেসিডেন্টের সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের কোনো সংঘাত নেই।
হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই নিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত লাভের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

বিদেশি ব্যবসাও আলোচনায়
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবভিত্তিক একটি ডেভেলপারের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট প্রকল্প, ভিয়েতনাম ও রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকেও ট্রাম্প পরিবারের উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে। এসব প্রকল্পের কিছুতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অংশগ্রহণ থাকায় স্বার্থের সংঘাত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে প্রেসিডেন্টদের পরিবারের সদস্যদের ব্যবসা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির পরিধি এবং প্রকাশ্য ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ অতীতের সব নজির থেকে আলাদা বলেই তারা মনে করছেন।
ট্রাম্প পরিবারের বক্তব্য
ট্রাম্প পরিবারের বক্তব্য, প্রথম মেয়াদে সম্ভাব্য সমালোচনা এড়াতে তারা নতুন আন্তর্জাতিক ব্যবসা থেকে দূরে ছিল। কিন্তু তারপরও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে তারা ব্যবসায়িক সুযোগ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন দেখেননি।
এই অবস্থানকে ঘিরেই যুক্তরাষ্ট্রে আবারও রাজনৈতিক নৈতিকতা, স্বার্থের সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যবসার সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যবসায়িক আয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, ক্রিপ্টো ব্যবসা থেকে বিলিয়ন ডলারের রাজস্ব এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

















