১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও দুর্দান্ত লড়াই করে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফোলারিন বালোগুনের প্রথমার্ধের গোল এবং শেষদিকে মালিক টিলম্যানের দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিকের গোলে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধে এগিয়ে, পরে লাল কার্ডের ধাক্কা
ম্যাচের শুরুতে আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজে এরমেদিন ডেমিরোভিচের দুটি ভালো সুযোগ রুখে দেন। কর্নার থেকেও কেরিম আলাইবেগোভিচের প্রচেষ্টা প্রতিহত করে দলকে বিপদমুক্ত রাখেন তিনি।
এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন ফোলারিন বালোগুন। অফসাইডের কারণে একটি গোল বাতিল হয় তার। পেনাল্টির আবেদনও করেন দুইবার। শেষ পর্যন্ত ৪৫তম মিনিটে টিম রিম মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের গোল কিক কেটে দিলে মালিক টিলম্যানের পাস থেকে বক্সের ভেতরে বাঁ পায়ের শটে গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে দেন বালোগুন।
তবে ৬৪তম মিনিটে তারিক মুহারেমোভিচের ওপর ফাউলের দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বালোগুন। এরপর বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।
টিলম্যানের ফ্রি-কিকে জয় নিশ্চিত
একজন কম নিয়ে খেললেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ৮২তম মিনিটে পেনাল্টি বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে দারুণ বাঁকানো শটে বল জালে জড়ান মালিক টিলম্যান। গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজ হাত ছুঁয়েও বল ঠেকাতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ বলেন, লাল কার্ডের পর পরিকল্পনা বদলাতে হলেও দল হিসেবে তারা অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। বিরতির সময় সবাই বুঝেছিল, বড় দল হতে হলে এমন পরিস্থিতি সামলাতে হয়, আর সেটিই তারা করতে পেরেছেন।
কোচ মৌরিসিও পোচেত্তিনোও খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, দলের সবাইকে নিয়ে তিনি গর্বিত।
টিলম্যান জানান, ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগে পায়ের বুড়ো আঙুলে রক্ত জমে যাওয়ায় তিনি ডান পায়ের বুট বদলেছিলেন। সেই পরিবর্তনের পরই আসে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ গোল।
ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় জয় পেল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় মেক্সিকোকে হারিয়েছিল তারা। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে গ্রুপ জিতে সেমিফাইনালে উঠলেও তখন বর্তমানের মতো নকআউট কাঠামো ছিল না।
এছাড়া ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে টানা ১০ ম্যাচের জয়হীনতাও কাটাল যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালে পর্তুগালকে হারানোর পর এই প্রথম বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে পরাজিত করল দলটি।
এখন শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছিল বেলজিয়াম। এবার নিজেদের মাঠে সেই স্মৃতি বদলানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে যুক্তরাষ্ট্র।
অন্যদিকে, হারলেও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ অভিযান ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তারা প্রথম ম্যাচে কানাডার সঙ্গে ড্র করে এবং কাতারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে সংখ্যায় পিছিয়ে থেকেও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা—দুই মিলিয়েই শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন নিয়েও জয়, বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত।
#বিশ্বকাপ #যুক্তরাষ্ট্র #বসনিয়াহার্জেগোভিনা #ফুটবল #শেষষোলো #পুলিসিচ #বালোগুন #টিলম্যান
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















