রাশিয়া ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার ফলে আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একটি নয়তলা আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর রাজধানীজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শহরের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।
আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
হামলার প্রধান আঘাত আসে কিয়েভের আবাসিক এলাকাগুলোতে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতির ঘটনা ঘটে একটি নয়তলা ভবনে, যার একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি সেবা কর্মীরা রাতভর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলেনস্কির সতর্কবার্তা
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বুধবার রাতে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি হামলার আগে ইউক্রেনের নাগরিকদের সম্ভাব্য বড় ধরনের রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
সরকারি কর্মকর্তারা হামলার পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন।

রাশিয়ার দাবি
মস্কো জানিয়েছে, এই হামলায় তারা ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। রাশিয়ার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেন জানিয়েছে, হামলার বড় অংশই আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বেড়েছে
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজধানী কিয়েভে সর্বশেষ এই হামলা যুদ্ধের নতুন করে তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার কিয়েভে রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত ও ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবনে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















