তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্ত্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকারকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাসক দল অভিযোগ করেছে, বিরোধী দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগম (ডিএমকে) তাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে ডিএমকে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পাল্টা তারা টিভিকের বিরুদ্ধেই বিধায়ক ভাঙানোর অভিযোগ তুলেছে।
অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে
বিতর্কের শুরু টিভিকের বিধায়ক এন এলাইয়ারাজার একটি অভিযোগকে ঘিরে। ২৯ জুন তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, তিরুনাভুক্কারাসু নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেকে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল ডেমোক্র্যাটিক স্ট্র্যাটেজিস (আইপিডিএস)-এর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তামিলনাড়ু বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি প্রস্তাবে নির্দিষ্টভাবে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে এলাইয়ারাজাকে সর্বোচ্চ ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনজন গ্রেপ্তার
এলাইয়ারাজার অভিযোগের ভিত্তিতে চেন্নাইয়ের ডি-১ ট্রিপলিকেন থানায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। পরে তিরুনাভুক্কারাসু, তিরুচিরাপল্লির নরেশ এবং চেন্নাইয়ের থিয়াগারাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, তদন্তে নরেশের সঙ্গে ডিএমকের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান কোয়েম্বাটুর সাউথের বিধায়ক ভি সেথিল বালাজির ভাই ভি অশোক কুমারের যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, তিরুনাভুক্কারাসু সেথিল বালাজি ও অশোক কুমারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
গ্রেপ্তারের পর তামিলনাড়ুর মন্ত্রী পি নির্মল কুমার অভিযোগ করেন, গত ৪০ দিন ধরে ডিএমকে টিভিকের বিধায়কদের দলে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তার দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল মেনে নিতে না পেরে ডিএমকে সভাপতি এম কে স্টালিন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছেন।

ডিএমকের পাল্টা জবাব
ডিএমকে মুখপাত্র টিকেএস এলাঙ্গোভান অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তার প্রশ্ন, একটি মাত্র টিভিকে বিধায়ককে দলে টানলে ডিএমকের কী রাজনৈতিক লাভ হবে? তার ভাষ্য, পুরো ঘটনায় অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে এবং ডিএমকে কখনও টিভিকের বিধায়ক কেনার চেষ্টা করেনি।
একই সঙ্গে ডিএমকে দাবি করেছে, টিভিকেও অন্য দলের বিধায়কদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। দলটির সংগঠন সম্পাদক আর এস ভারতী রাজ্যপাল আর এন রবির কাছে অভিযোগের তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন সংস্থাকে এফআইআর করার দাবি জানিয়েছেন। তবে টিভিকে বলছে, এলাইয়ারাজার অভিযোগ থেকে জনদৃষ্টি সরাতেই ডিএমকে এসব পাল্টা অভিযোগ তুলছে।
টিভিকে যোগ দিচ্ছেন সাবেক এআইএডিএমকে নেতারা
রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই টিভিকে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এআইএডিএমকের সাবেক মন্ত্রী সি বিজয়ভাস্কার, এম আর বিজয়ভাস্কার এবং এম এস এম আনন্দন বিজয়ের দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তাদের দাবি, সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি বিজয়ের নেতৃত্বের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। আনন্দন স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের দলবদলের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থের লেনদেন বা ‘হর্স-ট্রেডিং’-এর সম্পর্ক নেই।
জোট রাজনীতিতেও সক্রিয় টিভিকে
এদিকে কংগ্রেস, ভিডিসিকে, আইইউএমএল ও এমডিএমকের সঙ্গে টিভিকে তাদের জোটের প্রথম সমন্বয় বৈঠক করেছে। বৈঠকে সমন্বয় কমিটি গঠন, একটি অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি প্রণয়ন এবং জোটের আনুষ্ঠানিক নাম নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জোটসংশ্লিষ্ট নেতারা জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতাদের দাবি, এই বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল তামিলনাড়ু সরকারের পক্ষে জোটকে আরও সুসংহত করা; এর সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের ইন্ডিয়া জোটের কোনো সম্পর্ক নেই।
৩৫ কোটি রুপির ভোট প্রস্তাবকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্ক এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তদন্ত এগিয়ে চলেছে, আর তার ফলাফলের দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















